যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা ও শান্তি চুক্তিকে ইরানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেন, চুক্তির প্রতিটি ধারা ও শর্ত ইরানের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে রয়েছে এবং এর সুফল শিগগিরই দৃশ্যমান হবে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রতিটি বিধান দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তার ভাষায়, “চুক্তির প্রতিটি ধারা ইরানের পক্ষে। কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই জনগণের সামনে দৃশ্যমান হবে।”
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তিনি কাতারে জব্দ থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইরানি তহবিল ফেরত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন আটকে থাকা এই অর্থ ফেরত পাওয়া ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অর্জন বলে মনে করছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই অর্থ ছাড় প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আরও বলেন, আলোচনার শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেগুলোর অনেকগুলোই ইরানের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তার দাবি, এই চুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানের অবস্থানকে দুর্বল না করে বরং আরও শক্তিশালী করেছে।
আসন্ন সুইজারল্যান্ড বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই সমঝোতায় সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট হবেন তিনি। পেজেশকিয়ানের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট বলেন, ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি ছিল ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর নীতি অনুসরণ করে আসছে, যা ধর্মীয় নির্দেশনা ও রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে লিখিত নিশ্চয়তা চেয়েছিল, যা ইরান নথিভুক্ত করে সম্মতি দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক ইস্যুর ভবিষ্যৎ সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী দফা বৈঠকে এসব ইস্যু আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। অর্থ ফেরত, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং পারমাণবিক ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি