আঞ্চলিক তত্ত্বাবধানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে ইতিবাচক সংকেত পেয়েছে পাকিস্তান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম ধারার নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে একটি পৃথক নিরাপত্তা সংযোজনী যুক্ত করার ব্যাপারে ইরান আগ্রহী। ওই ধারার ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্যই সমঝোতা কার্যকর হওয়ার অন্যতম বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, প্রণালি পুনরায় চালুর একটি অস্থায়ী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরান হরমুজ দিয়ে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং বেরিয়ে যাওয়া জাহাজের চলাচলে নজরদারি চায়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বহির্গামী জাহাজের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ওমান ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নিয়ন্ত্রণের ধরন ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে মতবিরোধ এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ওমান, কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। কাতার জানিয়েছে, সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে মধ্যস্থতায় অগ্রগতি হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে খুব শিগগিরই চুক্তি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা কয়েক দিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির আশা প্রকাশ করলেও ইরানি পক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা দেয়নি।
সম্ভাব্য চুক্তিতে প্রাথমিকভাবে ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা চালুর আলোচনা চলছে। এই সময়ে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি ট্রানজিট ফি, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।
তবে হরমুজ প্রণালি এখনই খুলে যাচ্ছে বা চুক্তি নিশ্চিত হয়ে গেছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হলেও নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান, জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে।