ব্যাটিং বিপর্যয় যেন বাংলাদেশের পিছুই ছাড়ছে না। সিরিজের প্রথম ম্যাচের মতো তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতেও চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন টাইগার ব্যাটাররা। মাত্র ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ফিফটিতে সেই লজ্জা থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের সাগরিকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন টাইগার ব্যাটাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দল।
ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। জনসনের বলে সাইফ হাসানের সোজা শট বোলারের হাতে লেগে স্টাম্পে আঘাত করলে নন-স্ট্রাইকে থাকা তামিম ক্রিজের বাইরে থাকায় রানআউট হন। এরপর একই ওভারে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ হাসান। ৯ বলে মাত্র ১ রান করেন এই ওপেনার।
তিন নম্বরে নামা পারভেজ হোসেন ইমনও ব্যর্থ হন। নাথান এলিসের বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৩ বলে করেন মাত্র ১ রান। এই ইনিংসের মাধ্যমে অন্তত ১০ বল খেলা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে এক ইনিংসে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন তিনি।
পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে মাত্র ১৭ রান। এরপর কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন নুরুল হাসান সোহান ও তাওহীদ হৃদয়। তবে অ্যাডাম জাম্পার বলে বোল্ড হয়ে ৮ বলে ৬ রান করে ফেরেন সোহান। দলীয় ৩৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর শামীম পাটোয়ারীও ব্যর্থ হন। উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে তিনি করেন মাত্র ৩ রান। এতে ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। রিশাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। রিশাদ ১৪ বলে এক চার ও এক ছক্কায় ১৬ রান করে বিদায় নিলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়।
অধিনায়কের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নিয়ে দলকে বিব্রতকর রেকর্ডের হাত থেকে রক্ষা করেন হৃদয়।
ফলে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ১১০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।