গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জাতীয় সংসদই রাজনৈতিক বিতর্ক, মতবিনিময় এবং সমস্যা সমাধানের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, সংসদের বিষয় রাজপথে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক নয়।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক ফটো অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন এবং বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কার্যকর সংসদীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। কিন্তু কেউ কেউ রাজনৈতিক আলোচনা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংসদের চেয়ে রাজপথকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সরকার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বশীল সরকার উত্তেজনা বা উসকানির বদলে গঠনমূলক সমাধানে বিশ্বাস করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি একটি স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আন্দোলনের একটি পর্যায় শেষ হয়েছে, এখন দেশ পুনর্গঠনের সময়।
তিনি বলেন, কোনো সমস্যা তৈরি হলে সরকার প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবে। তবে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও সরকার পিছপা হবে না।
আলোকচিত্রকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ত্যাগ, নির্যাতন ও ঘটনাপ্রবাহ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম।
তিনি বলেন, তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীতে আন্দোলনের নির্যাতন, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে যাতে দেশে কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের শোষণ, নিপীড়ন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের চূড়ান্ত প্রকাশ। তিনি শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মব সংস্কৃতি, সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে তিনি এসব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের গণতন্ত্র ও মানবতার পক্ষে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসীন বলেন, ফটোসাংবাদিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ধারণ করেন। অথচ অনেক সময় তাদের যথাযথ সম্মান ও মূল্যায়ন করা হয় না। তিনি ফটোসাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি বা একক গোষ্ঠীর অর্জন নয়। এটি ছিল সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম।
তিনি বলেন, আন্দোলনের কৃতিত্ব এককভাবে দাবি করার চেষ্টা বিভাজন সৃষ্টি করছে, যা জুলাইয়ের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল এবং বিপিজেএর নেতারাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।