ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ব্রিটিশ কারি শিল্পের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত বাংলাদেশিরা

ব্রিটিশ কারি শিল্পের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত বাংলাদেশিরা
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

যুক্তরাজ্যের কারি শিল্প দেশটির জনপ্রিয় খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হওয়ার পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক খাত হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের হিসাবে, এ খাত বছরে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে প্রায় ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন কারি রেস্তোরাঁ ও টেকঅ্যাওয়ের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটি জানিয়েছে।

রেস্তোরাঁর পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ, ক্যাটারিং, পরিবহন, মসলা ও কাঁচামাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও বহু মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কারি খাতের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু রেস্তোরাঁর বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

যুক্তরাজ্যের তথাকথিত ‘ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট’গুলোর বড় একটি অংশ ব্রিটিশ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মালিকানা ও পরিচালনায় গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন শিল্পসংশ্লিষ্ট হিসাবে এ হার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মালিকের পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে।

বাংলাদেশি অভিবাসীরা কয়েক দশক ধরে ছোট ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ দিয়ে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পকে বিস্তৃত করেছেন। তাঁদের উদ্যোগে কারি বড় শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছোট শহর ও উপশহরেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে কারি ব্রিটিশদের নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের অংশ। রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার পাশাপাশি টেকঅ্যাওয়ে ও হোম ডেলিভারি বাজারেও এ খাবারের বড় চাহিদা রয়েছে। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রেস্তোরাঁগুলো দেশটির খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি স্বাদ ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানকে দৃশ্যমান করেছে।

তবে বড় এই শিল্প এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দক্ষ বাবুর্চি ও কর্মীর সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামালের বাড়তি খরচ, কর এবং অভিবাসন নীতির কারণে অনেক রেস্তোরাঁর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী গ্যাসচালিত তন্দুর ও রান্নার সরঞ্জাম পরিবর্তনের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়েও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

প্রজন্মগত পরিবর্তনও এ শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক তরুণ পারিবারিক রেস্তোরাঁ ব্যবসার পরিবর্তে অন্য পেশায় যেতে আগ্রহী হওয়ায় কিছু পুরোনো প্রতিষ্ঠান উত্তরসূরি সংকটে পড়ছে। তবে নতুন প্রজন্মের অনেকে আধুনিক ব্যবস্থাপনা, অনলাইন অর্ডার ও নতুন ধরনের খাবার যুক্ত করে ব্যবসাকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা করছেন।

চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ে কারি শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই সাফল্যের পেছনে ব্রিটিশ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কয়েক দশকের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ বড় ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র : বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন

ট্যাগ : ব্রিটিশ বাংলাদেশি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ব্রিটিশ কারি শিল্পের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ভিত বাংলাদেশিরা

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

যুক্তরাজ্যের কারি শিল্প দেশটির জনপ্রিয় খাদ্যসংস্কৃতির অংশ হওয়ার পাশাপাশি বড় অর্থনৈতিক খাত হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন শিল্প সংগঠনের হিসাবে, এ খাত বছরে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে প্রায় ৪ থেকে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড অবদান রাখছে।

বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মালিকানাধীন কারি রেস্তোরাঁ ও টেকঅ্যাওয়ের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটি জানিয়েছে।

রেস্তোরাঁর পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ, ক্যাটারিং, পরিবহন, মসলা ও কাঁচামাল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আরও বহু মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কারি খাতের প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু রেস্তোরাঁর বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

যুক্তরাজ্যের তথাকথিত ‘ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট’গুলোর বড় একটি অংশ ব্রিটিশ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের মালিকানা ও পরিচালনায় গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন শিল্পসংশ্লিষ্ট হিসাবে এ হার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মালিকের পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে।

বাংলাদেশি অভিবাসীরা কয়েক দশক ধরে ছোট ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ দিয়ে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাজ্যের কারি শিল্পকে বিস্তৃত করেছেন। তাঁদের উদ্যোগে কারি বড় শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে ছোট শহর ও উপশহরেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে কারি ব্রিটিশদের নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের অংশ। রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার পাশাপাশি টেকঅ্যাওয়ে ও হোম ডেলিভারি বাজারেও এ খাবারের বড় চাহিদা রয়েছে। ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রেস্তোরাঁগুলো দেশটির খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি স্বাদ ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানকে দৃশ্যমান করেছে।

তবে বড় এই শিল্প এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দক্ষ বাবুর্চি ও কর্মীর সংকট, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামালের বাড়তি খরচ, কর এবং অভিবাসন নীতির কারণে অনেক রেস্তোরাঁর পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী গ্যাসচালিত তন্দুর ও রান্নার সরঞ্জাম পরিবর্তনের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়েও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ জানিয়েছেন।

প্রজন্মগত পরিবর্তনও এ শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক তরুণ পারিবারিক রেস্তোরাঁ ব্যবসার পরিবর্তে অন্য পেশায় যেতে আগ্রহী হওয়ায় কিছু পুরোনো প্রতিষ্ঠান উত্তরসূরি সংকটে পড়ছে। তবে নতুন প্রজন্মের অনেকে আধুনিক ব্যবস্থাপনা, অনলাইন অর্ডার ও নতুন ধরনের খাবার যুক্ত করে ব্যবসাকে যুগোপযোগী করার চেষ্টা করছেন।

চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ে কারি শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। আর এই সাফল্যের পেছনে ব্রিটিশ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের কয়েক দশকের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগ বড় ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র : বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ