ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৮ জন, যাদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে।
শনিবার কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এ হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাতভর চালানো হামলায় কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় এক ডজনের বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে আবাসিক ভবন, গুদাম ও বেশ কয়েকটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শেভচেনকিভস্কি এলাকার একটি আবাসিক ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার অংশ ধসে পড়ে। ভবনটির ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়ার খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দল সেখানে অভিযান শুরু করে। আশপাশের কয়েকটি গুদামেও আগুন ধরে যায়।
দারনিৎস্কি এলাকায় ভবন ও গাড়িতে আগুন ধরে সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। সোলোমিয়ানস্কি এলাকার পাঁচতলা একটি ভবনে আগুন লাগলে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। সেখানে আটজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হামলার পর শহরের কয়েকটি এলাকায় সাময়িক বিদ্যুৎ–বিভ্রাট দেখা দেয়। দমকল ও জরুরি বিভাগের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণ এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারে কাজ করেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার পর আবারও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় আরও প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে কিয়েভে এটি দ্বিতীয় বড় রুশ হামলা। তবে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উভয় পক্ষের সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সূত্র : রয়টার্স