ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলার পর একটি গোলাবারুদ গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর একের পর এক বিস্ফোরণ ও আগুন আশপাশের আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রোববার পর্যন্ত চারজন নিখোঁজ ছিলেন। কিয়েভ অঞ্চলের বুচা জেলার মিলা গ্রামে শুক্রবার রাতে এ হামলা হয়। রোববারও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করতে দেখা যায়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে ছিল বিস্ফোরিত গোলাবারুদের বিভিন্ন অংশ। [BANGVIEWS-POST:4825]মিলা গ্রামের ৪৮ বছর বয়সী উদ্যোক্তা লিউদমিলা পলিয়ানিচকো রয়টার্সকে জানান, হামলার সময় তিনি ও তার মেয়ে বাড়ির ভেতরে ছিলেন। প্রথমে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। এরপর বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় চারদিকে কাচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে নিয়ে বাথরুমে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করার সময় তাদের ওপর একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে। শেষ পর্যন্ত দুজনই প্রাণে বেঁচে যান। পলিয়ানিচকোর বাড়ির উঠানে রোববারও পোড়া গোলার খোসা ও গুলির অংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার মেয়ের ঘরও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি জানান, বাড়ির এত কাছে গোলাবারুদ মজুত করা হয়েছিল—এ বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রুশ ড্রোনটি মিলা গ্রামের একটি সামরিক গোলাবারুদ সংরক্ষণস্থলে আঘাত করে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সেখানে কামানের গোলা, মাইন, অন্যান্য গোলাবারুদ ও ড্রোন রাখা ছিল। হামলার পর মজুত গোলাবারুদে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ শুরু হলে আগুন আশপাশের আবাসিক এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে।এ ঘটনায় ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। বেসামরিক মানুষের বসতির এত কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রাখাকে তিনি গুরুতর অবহেলা হিসেবে দেখছেন। কেন এবং কীভাবে আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা হয়েছিল, তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা ও পুলিশ সম্ভাব্য অপরাধমূলক অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করছে। গত দুই মাসের মধ্যে কিয়েভ অঞ্চলের গোলাবারুদ সংরক্ষণস্থলে হামলার পর বড় ধরনের বিস্ফোরণের এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে জুলাইয়ে ভিশনেভে এলাকায় একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণস্থলে হামলার পরও প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। রোববারও চার নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, অধিকাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও বিস্ফোরক ও গোলাবারুদের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকায় এলাকাটি এখনো বিপজ্জনক। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেখানে অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করতে কাজ করছে। [BANGVIEWS-POST:4824]এদিকে শুধু মিলা নয়, ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। জেলেনস্কির হিসাবে, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২ হাজার হামলাকারী ড্রোন, ১ হাজার ৬০০টির বেশি আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য বোমা এবং ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, এসব হামলার জবাব দেওয়ার উপায় খুঁজছে ইউক্রেন। মিলা গ্রামের হামলাটি চলতি বছরে ইউক্রেনে একক কোনো রুশ হামলায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকার এত কাছে সামরিক গোলাবারুদ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েও ইউক্রেনের ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স