টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানী ঢাকার বাতাসে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ওপরের দিকে থাকলেও শনিবার সকালে ঢাকা শীর্ষ ১৫ শহরের বাইরে অবস্থান করছিল।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের লাইভ সূচক অনুযায়ী, শনিবার সকালে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১৮তম। এ সময় রাজধানীর বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ৮৬।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ডে এ স্কোরকে ‘মাঝারি’ পর্যায়ের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে ঢাকার বাতাস সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে সহনীয় থাকলেও অতিসংবেদনশীল ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার প্রয়োজন হতে পারে।
তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিল কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৮৮, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের। দ্বিতীয় স্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার স্কোর ছিল ১৭৩।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই যৌথভাবে পরবর্তী অবস্থানে ছিল। দুটি শহরেরই একিউআই স্কোর ছিল ১৪৯। বাহরাইনের রাজধানী মানামার স্কোর ছিল ১৩৭।
আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ভালো এবং ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর।
স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বায়ু অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩০১ বা তার বেশি স্কোরের বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃষ্টিতে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও দূষিত কণার পরিমাণ সাময়িকভাবে কমে যায়। তবে নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া ও শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে বায়ুমানের উন্নতি ধরে রাখা কঠিন।
আইকিউএয়ারের শহরভিত্তিক তালিকা প্রতি ঘণ্টায় পরিবর্তিত হয়। ফলে প্রকাশের সময় শহরগুলোর অবস্থান ও স্কোরে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।