ঢাকা    শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই

ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ও এসি মিলানের সাবেক অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিত বারেসি পুরো পেশাদার ক্যারিয়ার একমাত্র এসি মিলানের জার্সিতেই কাটিয়েছেন।

১৯৭৭ সালে এসি মিলানের মূল দলে অভিষেকের পর ১৯৯৭ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে মোট ৭১৯টি ম্যাচ খেলেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অবসরের পর তার ব্যবহৃত ৬ নম্বর জার্সি স্থায়ীভাবে তুলে রাখে ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

ইতালির ব্রেশিয়ার কাছে ট্রাভালিয়াতো শহরে জন্ম নেওয়া বারেসি শৈশবেই বাবা-মাকে হারান। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়গুলো পেছনে ফেলে ফুটবলেই নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন তিনি। তার ভাই জিউসেপ্পে বারেসি ইন্টার মিলানে খেললেও ফ্রাঙ্কো যোগ দেন নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানে, যেখানে তিনি ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়কে পরিণত হন।

কোচ নিলস লিডহোমের অধীনে অল্প বয়সেই সিরি আ-তে অভিষেক হয় বারেসির। অসাধারণ রক্ষণভাগের দক্ষতা, খেলার পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা, নিখুঁত ট্যাকল এবং নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন। মাত্র ২২ বছর বয়সে এসি মিলানের অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি।

বারেসির ক্যারিয়ারে কঠিন সময়ও এসেছে। ১৯৮০-এর দশকে টোটোনেরো বেটিং কেলেঙ্কারি এবং দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে এসি মিলান দুইবার সিরি বি-তে অবনমিত হলেও তিনি ক্লাব ছেড়ে যাননি। বরং দলকে আবার শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৬ সালে সিলভিও বেরলুসকোনি ক্লাবটির মালিক হওয়ার পর কোচ আরিগো সাক্কির অধীনে এসি মিলান ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করে। রুদ খুলিত, ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড, মার্কো ভ্যান বাস্তেন, পাওলো মালদিনি, মাউরো তাসোত্তি ও আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তার মতো তারকাদের সঙ্গে বারেসি গড়ে তোলেন ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রক্ষণভাগ।

ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ছয়টি সিরি আ শিরোপা জেতেন। এছাড়া ইতালি জাতীয় দলের হয়ে ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৮৯ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারে রানার্সআপ হন এবং এসি মিলানের শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও নির্বাচিত হন।

জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের সদস্য থাকলেও মাঠে খেলার সুযোগ পাননি। ১৯৯০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির পরাজয় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় আক্ষেপ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৪ সালের ফাইনালে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে খেললেও টাইব্রেকারে ইতালি ব্রাজিলের কাছে হেরে যায়।

অবসরের পরও এসি মিলানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখেন বারেসি। তিনি ক্লাবটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট, যুব একাডেমির কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে ক্লাব অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ফুটবলে তার অসাধারণ নেতৃত্ব, রক্ষণভাগে অনন্য দক্ষতা এবং ক্লাবের প্রতি অটুট আনুগত্য তাকে শুধু এসি মিলানের নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ডিফেন্ডার হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

ট্যাগ : এসি মিলান সিরি আ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি আর নেই

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ও এসি মিলানের সাবেক অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে পরিচিত বারেসি পুরো পেশাদার ক্যারিয়ার একমাত্র এসি মিলানের জার্সিতেই কাটিয়েছেন।

১৯৭৭ সালে এসি মিলানের মূল দলে অভিষেকের পর ১৯৯৭ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত ক্লাবটির হয়ে মোট ৭১৯টি ম্যাচ খেলেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অবসরের পর তার ব্যবহৃত ৬ নম্বর জার্সি স্থায়ীভাবে তুলে রাখে ইতালির ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

ইতালির ব্রেশিয়ার কাছে ট্রাভালিয়াতো শহরে জন্ম নেওয়া বারেসি শৈশবেই বাবা-মাকে হারান। ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়গুলো পেছনে ফেলে ফুটবলেই নিজের পরিচয় গড়ে তোলেন তিনি। তার ভাই জিউসেপ্পে বারেসি ইন্টার মিলানে খেললেও ফ্রাঙ্কো যোগ দেন নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানে, যেখানে তিনি ক্লাব ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়কে পরিণত হন।

কোচ নিলস লিডহোমের অধীনে অল্প বয়সেই সিরি আ-তে অভিষেক হয় বারেসির। অসাধারণ রক্ষণভাগের দক্ষতা, খেলার পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে নেওয়ার ক্ষমতা, নিখুঁত ট্যাকল এবং নেতৃত্বগুণের কারণে তিনি দ্রুতই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হন। মাত্র ২২ বছর বয়সে এসি মিলানের অধিনায়কের দায়িত্ব পান তিনি।

বারেসির ক্যারিয়ারে কঠিন সময়ও এসেছে। ১৯৮০-এর দশকে টোটোনেরো বেটিং কেলেঙ্কারি এবং দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে এসি মিলান দুইবার সিরি বি-তে অবনমিত হলেও তিনি ক্লাব ছেড়ে যাননি। বরং দলকে আবার শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৬ সালে সিলভিও বেরলুসকোনি ক্লাবটির মালিক হওয়ার পর কোচ আরিগো সাক্কির অধীনে এসি মিলান ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করে। রুদ খুলিত, ফ্রাঙ্ক রাইকার্ড, মার্কো ভ্যান বাস্তেন, পাওলো মালদিনি, মাউরো তাসোত্তি ও আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তার মতো তারকাদের সঙ্গে বারেসি গড়ে তোলেন ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রক্ষণভাগ।

ক্লাব ক্যারিয়ারে তিনি তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ছয়টি সিরি আ শিরোপা জেতেন। এছাড়া ইতালি জাতীয় দলের হয়ে ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৮৯ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারে রানার্সআপ হন এবং এসি মিলানের শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় হিসেবেও নির্বাচিত হন।

জাতীয় দলের হয়ে ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের সদস্য থাকলেও মাঠে খেলার সুযোগ পাননি। ১৯৯০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতালির পরাজয় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় আক্ষেপ হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৪ সালের ফাইনালে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে খেললেও টাইব্রেকারে ইতালি ব্রাজিলের কাছে হেরে যায়।

অবসরের পরও এসি মিলানের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখেন বারেসি। তিনি ক্লাবটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট, যুব একাডেমির কর্মকর্তা এবং পরবর্তীতে ক্লাব অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ফুটবলে তার অসাধারণ নেতৃত্ব, রক্ষণভাগে অনন্য দক্ষতা এবং ক্লাবের প্রতি অটুট আনুগত্য তাকে শুধু এসি মিলানের নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ডিফেন্ডার হিসেবে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ