আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে হারের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। এবার সান্তোসের একটি ম্যাচের পর নিজের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
সংবাদ সম্মেলনে নেইমার জানান, ব্রাজিলের হয়ে তার সময় শেষ হয়ে গেছে। দেশের জার্সিতে দীর্ঘ সময় লড়াই করা এবং ইতিহাস গড়তে পারায় তিনি সন্তুষ্ট। তবে এখন আর জাতীয় দলের হয়ে খেলার ইচ্ছা নেই এবং তার পুরো মনোযোগ থাকবে শৈশবের ক্লাব সান্তোসকে ঘিরে।
নেইমার বলেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ব্রাজিলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০১০ সালে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি ১৩০ ম্যাচ খেলে ৮০ গোল করেছেন। ব্রাজিলের পুরুষ জাতীয় দলের ইতিহাসে তিনিই সর্বোচ্চ গোলদাতা।
চোট ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সংশয় থাকার পরও কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের দলে রেখেছিলেন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামতে পারেননি নেইমার। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে খেলেন তিনি।
বিশ্বকাপে নেইমারের একমাত্র গোলটি আসে নরওয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে। নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করলেও ব্রাজিলকে পরাজয় থেকে রক্ষা করতে পারেননি তিনি। আর্লিং হালান্ডের দুই গোলে নরওয়ে ম্যাচটি ২-১ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।
পরাজয়ের পর আবেগাপ্লুত নেইমার জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের হয়ে তার যাত্রা সম্ভবত শেষ। কয়েক সপ্তাহ পর সান্তোসের হয়ে ম্যাচ জয়ের পর তিনি সেই সিদ্ধান্ত আবারও নিশ্চিত করলেন।
নেইমার ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬ সালে মোট চারটি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিনিধিত্ব করেন। বিশ্বকাপে ব্যক্তিগতভাবে স্মরণীয় অনেক মুহূর্ত উপহার দিলেও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে আরেকটি শিরোপা তুলে দিতে পারেননি তিনি।
তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বড় অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ জয়। এ ছাড়া ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো পুরুষ ফুটবলের স্বর্ণপদক জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।
জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও ক্লাব ফুটবল চালিয়ে যাবেন নেইমার। আপাতত সান্তোসের পারফরম্যান্স এবং ক্লাবটির লক্ষ্য পূরণেই নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত করতে চান তিনি।