ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

লোহিত সাগরে জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা হুথিদের

লোহিত সাগরে জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা হুথিদের
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর দক্ষিণ লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয় ইরানঘনিষ্ঠ হুথিরা। এরপর লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজ ও স্থাপনায় হামলার হুমকি এবং হামলার দাবি করে গোষ্ঠীটি। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাব আল-মানদেব দক্ষিণ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এই পথটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি তেহরান সফরের সময় হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছে। পরে কয়েকজন ইরানি উপদেষ্টা ইয়েমেনে গিয়ে সম্ভাব্য মাশুল সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে পরামর্শ দেন।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাহাজের কাছ থেকে মাশুল আদায়ের জন্য আলাদা একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হতে পারে। তবে হুথিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় চীনের জাহাজগুলোকে মাশুল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। হুথিদের হামলা এড়িয়ে চীনা তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বেইজিং গোষ্ঠীটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

চীন সৌদি আরবের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। সম্প্রতি সৌদি তেল বহনকারী কয়েকটি চীনা জাহাজ কোনো হামলা ছাড়াই বাব আল-মানদেব অতিক্রম করেছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ একই সুবিধা পাবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা বলেছেন, হুথিরা লোহিত সাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের চেষ্টা করতে পারে।

পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের মাশুল আরোপের চেষ্টা উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়বে। তবে বর্তমানে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নৌসক্ষমতা নেই বলেও তারা মনে করছেন।

বাব আল-মানদেব দিয়ে চলাচল বন্ধ বা সীমিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি এই পথেও সংকট তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিদের হামলার কারণে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে অনেক জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা পরিবহন ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘের ২০২৪ সালের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নিরাপদে চলাচলের বিনিময়ে কয়েকটি শিপিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হুথিদের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তখন মাশুল আদায়ের পরিমাণ মাসে প্রায় ১৮ কোটি ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স

ট্যাগ : সৌদি আরব হুথি লোহিত সাগর

বাংলা ভিউজ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লোহিত সাগরে জাহাজ থেকে ফি নেওয়ার পরিকল্পনা হুথিদের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার পর দক্ষিণ লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী অধিকাংশ জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট হারে ফি আরোপের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি।

গত ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয় ইরানঘনিষ্ঠ হুথিরা। এরপর লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজ ও স্থাপনায় হামলার হুমকি এবং হামলার দাবি করে গোষ্ঠীটি। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাব আল-মানদেব দক্ষিণ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে এই পথটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, সম্প্রতি তেহরান সফরের সময় হুথি প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের আলোচনা হয়েছে। পরে কয়েকজন ইরানি উপদেষ্টা ইয়েমেনে গিয়ে সম্ভাব্য মাশুল সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে পরামর্শ দেন।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জাহাজের কাছ থেকে মাশুল আদায়ের জন্য আলাদা একটি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হতে পারে। তবে হুথিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় চীনের জাহাজগুলোকে মাশুল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। হুথিদের হামলা এড়িয়ে চীনা তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বেইজিং গোষ্ঠীটির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

চীন সৌদি আরবের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। সম্প্রতি সৌদি তেল বহনকারী কয়েকটি চীনা জাহাজ কোনো হামলা ছাড়াই বাব আল-মানদেব অতিক্রম করেছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ একই সুবিধা পাবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জুবা বলেছেন, হুথিরা লোহিত সাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের চেষ্টা করতে পারে।

পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, আন্তর্জাতিক জলপথে এ ধরনের মাশুল আরোপের চেষ্টা উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়বে। তবে বর্তমানে ওই অঞ্চলে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত নৌসক্ষমতা নেই বলেও তারা মনে করছেন।

বাব আল-মানদেব দিয়ে চলাচল বন্ধ বা সীমিত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি এই পথেও সংকট তৈরি হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুথিদের হামলার কারণে লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে অনেক জাহাজকে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে, যা পরিবহন ব্যয় ও সময় বাড়িয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘের ২০২৪ সালের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নিরাপদে চলাচলের বিনিময়ে কয়েকটি শিপিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হুথিদের অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে ওই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তখন মাশুল আদায়ের পরিমাণ মাসে প্রায় ১৮ কোটি ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সূত্র : রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ