ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

চীন থেকে ৪০০ ম্যানপ্যাডস কিনছে ইরান, দাবি সূত্রের

চীন থেকে ৪০০ ম্যানপ্যাডস কিনছে ইরান, দাবি সূত্রের
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা বা ম্যানপ্যাডস সংগ্রহ করছে ইরান—এমন দাবি করেছেন কথিত চুক্তি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র। তবে অস্ত্র সরবরাহের খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রথম চালান ইরানে পৌঁছাতে পারে।

সূত্রগুলোর দাবি, চুক্তির আওতায় ইরান ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপ্যাডস সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে চীনে তৈরি কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার।

হংকংভিত্তিক ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে চুক্তিটি হয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর। প্রতিষ্ঠানটি ইরানি পক্ষ ও চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন ধারাবাহিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত অবসানে ভূমিকা রেখে আসছে।’

ঝংছিং বাওশাংয়ের মূল প্রতিষ্ঠানও এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকলেও সরবরাহের সময়সূচি, ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও বাস্তবায়নের অন্যান্য বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে অস্ত্রের চালান এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে দেশটি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ম্যানপ্যাডস ছোট দলের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায় এবং দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ কারণে স্থায়ী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তুলনায় এগুলো শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন।

কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ হলো ইনফ্রারেড-নিয়ন্ত্রিত, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে হামলার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন প্রতিহত করতে এগুলো তৈরি করা হয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রাথমিক চালান চীনের উরুমকি থেকে পাকিস্তান হয়ে ইরানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চালানটি আকাশপথে নাকি স্থলপথে যাবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা’।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ইরান চীন ম্যানপ্যাডস আকাশ প্রতিরক্ষা

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চীন থেকে ৪০০ ম্যানপ্যাডস কিনছে ইরান, দাবি সূত্রের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা বা ম্যানপ্যাডস সংগ্রহ করছে ইরান—এমন দাবি করেছেন কথিত চুক্তি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র। তবে অস্ত্র সরবরাহের খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রথম চালান ইরানে পৌঁছাতে পারে।

সূত্রগুলোর দাবি, চুক্তির আওতায় ইরান ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যানপ্যাডস সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে চীনে তৈরি কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য ৬ থেকে ৭ কোটি মার্কিন ডলার।

হংকংভিত্তিক ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে চুক্তিটি হয়েছে বলে দাবি সূত্রগুলোর। প্রতিষ্ঠানটি ইরানি পক্ষ ও চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন ধারাবাহিকভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত অবসানে ভূমিকা রেখে আসছে।’

ঝংছিং বাওশাংয়ের মূল প্রতিষ্ঠানও এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে থাকলেও সরবরাহের সময়সূচি, ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ও বাস্তবায়নের অন্যান্য বিষয় পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে অস্ত্রের চালান এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক মাসের সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে দেশটি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ম্যানপ্যাডস ছোট দলের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায় এবং দ্রুত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব। এ কারণে স্থায়ী আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তুলনায় এগুলো শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন।

কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ হলো ইনফ্রারেড-নিয়ন্ত্রিত, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে হামলার ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন প্রতিহত করতে এগুলো তৈরি করা হয়েছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য, প্রাথমিক চালান চীনের উরুমকি থেকে পাকিস্তান হয়ে ইরানে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চালানটি আকাশপথে নাকি স্থলপথে যাবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ বিভাগ আইএসপিআর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততার খবর ‘সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা’।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ