ইয়েমেনের আল-ধালে প্রদেশে হুথি গোষ্ঠীর কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে দেশটির সরকারপন্থি বাহিনী। শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে।
ইয়েমেনের ন্যাশনস শিল্ড ফোর্সেস জানিয়েছে, আল-ধালে এলাকায় হুথিদের অবস্থান ও সদস্যদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্টভাবে ড্রোন হামলা চালানো হয়।
বাহিনীটি হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করেছে। ফুটেজে একটি স্থানে বেশ কয়েকজন হুথি সদস্যের উপস্থিতির মধ্যে আকাশ থেকে হামলার দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ নিয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনে কয়েক বছরের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবারও সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। এর ফলে দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণেও পরিবর্তন এসেছে।
বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের অগ্রযাত্রা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। মোখা বন্দরসহ লোহিত সাগর উপকূলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান শক্তিশালী করেছে গোষ্ঠীটি। তাদের অগ্রযাত্রা কৌশলগত বাব এল-মানদেব প্রণালির আরও কাছে নিয়ে গেছে।
বাব এল-মানদেব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ চলাচল করে। ফলে অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের সীমান্তঘেঁষা আল-জাউফ অঞ্চলেও সরকারপন্থি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলছে। মারিব, আল-বায়দা ও আল-ধালেসহ একাধিক ফ্রন্টে দুই পক্ষের সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর ইয়েমেনে পূর্ণমাত্রার রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট শুরু হয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সহায়তা করতে ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে।
দীর্ঘ সংঘাতে দেশটির লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ইয়েমেন আবারও বড় ধরনের যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি