ঢাকা    শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

কেন ইসরাইলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছে গ্রিস?

তুরস্কের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইলের সঙ্গে বড় ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে গ্রিস। প্রায় ৩৫৯ কোটি ডলারের এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।সোমবার (৩১ আগস্ট) তেল আবিবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় ইসরাইলের তৈরি সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আচিলিস শিল্ড’ গড়ে তুলবে গ্রিস।চুক্তিটি এমন এক সময়ে হলো, যখন এজিয়ান সাগর ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিভিন্ন ইস্যুতে গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইসরাইলের সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।[BANGVIEWS-POST:4919]গ্রিসের সামরিক আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হচ্ছে। দেশটি আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে যুদ্ধজাহাজ কেনার পরিকল্পনাও করছে।ইসরাইলের ‘আচিলিস শিল্ড’ ব্যবস্থায় রয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি।এর মধ্যে রয়েছে ডেভিডস স্লিং, যা মাঝারি ও দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়। রয়েছে স্পাইডার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা ড্রোন, বিমান ও হেলিকপ্টারের মতো কম উচ্চতার লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে পারে। এছাড়া বারাক এমএক্স ব্যবস্থা ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন আকাশ হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।চুক্তির আওতায় ইসরাইল গ্রিসকে আধুনিক রাডার ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কমান্ড সেন্টারও সরবরাহ করবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চুক্তির মাধ্যমে ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও দেওয়া হবে।বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির কারণে গ্রিস এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চাইছে।অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসতাই বলেন, গ্রিসে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাতের সময় লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, তাই এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।তবে এই চুক্তির দিকে নজর রয়েছে তুরস্কেরও। দুই ন্যাটো সদস্য দেশ গ্রিস ও তুরস্কের মধ্যে সমুদ্রসীমা, দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের জ্বালানি সম্পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।[BANGVIEWS-POST:4918]বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইল-গ্রিস-সাইপ্রাসের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি আঙ্কারার জন্য নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।অন্যদিকে গ্রিসের অভ্যন্তরেও চুক্তিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দল ও কিছু নাগরিক গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সমালোচনা করেছেন।৩৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে ‘আচিলিস শিল্ড’ কার্যকর করার পরিকল্পনা করেছে গ্রিস। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের সামরিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।সূত্র: আল জাজিরা

কেন ইসরাইলের সঙ্গে ৩৫০ কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছে গ্রিস?