হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার ও সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। তার অবস্থান সম্পর্কে অবগত দুই সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক অভিযানটি কার্যকারিতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে বলে মনে করেন কুপার। অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক উপদেষ্টার মতামতের পাশাপাশি তার এই জোরালো সুপারিশ শুক্রবার ইরানে মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
টানা দুই সপ্তাহ হামলার পর প্রথমবারের মতো ইরানের দক্ষিণ উপকূল ও হরমুজ প্রণালি অঞ্চলে নতুন আক্রমণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সপ্তাহের শুরুতেই পেন্টাগন, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ ও হোয়াইট হাউসের কাছে ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন কুপার। তার মতে, দুই সপ্তাহের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে আক্রমণ চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে থেকে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলোর অধিকাংশেও হামলা চালানো হয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, পরবর্তী ধাপে এগোতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে হতো। ওই অভিযানের লক্ষ্য হতে পারত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সময় নির্ধারিত কিন্তু অক্ষত থাকা প্রায় ২০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তু। বড় অভিযান শুরু না করলে সীমিত পরিসরে বোমা হামলা চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলে সতর্ক করেন কুপার।
তবে এসব বিষয়ে সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য ঘাটতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আশঙ্কা, মজুত কমে গেলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ও মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু এবং নির্বিঘ্ন নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে নৌপথটির নিরাপত্তা ও মাইন অপসারণে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। তবে সম্মেলনের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের সব বিকল্প খোলা রাখার পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগও দিচ্ছেন।
সূত্র: অ্যাক্সিওস