যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেওয়া প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ নীতিগতভাবে আবার আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নয়। বরং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ প্রস্তাবে সামরিক উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমঝোতার পথ তৈরির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সম্ভাবনাও আলোচনার অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যস্থতাকারীদের কাছে নিজেদের অবস্থান ও মতামত জমা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তার মতে, ইরান এখনো পূর্ণাঙ্গ সমঝোতার জন্য প্রস্তুত নয়।
বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহাকে সম্ভাব্য আলোচনার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাতার ও পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমানও পরোক্ষভাবে এই কূটনৈতিক উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের আলোচনায় ফেরার আগ্রহ ইতিবাচক বার্তা দিলেও নিষেধাজ্ঞা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে গভীর মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান।
তাদের ধারণা, আলোচনার দরজা আগের তুলনায় কিছুটা খুললেও দ্রুত পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। বর্তমান পরিস্থিতিকে তাই কূটনৈতিক অগ্রগতি এবং সতর্ক আশাবাদের একটি পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল আরাবিয়া