বিশ্ব টেক্সটাইল বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, আগামী দিনে এই খাতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিতে হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গ্রিন টেক্সটাইল প্রযুক্তি ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে হবে।
শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসে আয়োজিত ৪র্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাতে প্রায় ৬০ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন, যাদের বড় অংশ নারী। তাই এই খাতের উন্নয়ন শুধু রপ্তানি আয় নয়, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও কাঁচামালের ক্ষেত্রে এখনো নির্ভরতা রয়েছে। এই নির্ভরতা কমিয়ে চীন, ভিয়েতনাম, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সঙ্গে টিকে থাকতে গবেষণাভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পোশাক খাতে কর্মসংস্থান কমিয়ে দেবে না উল্লেখ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এআই পণ্যের মান উন্নয়ন, নতুন ডিজাইন তৈরি, উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিপণনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে পরিবেশবান্ধব গ্রিন টেক্সটাইল, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ও দূষণ কমানোর প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড়ের ইতিহাস স্মরণ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সমৃদ্ধ অতীতকে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে সিনথেটিক ও পলিথিন ব্যাগের বিকল্প হিসেবে পচনশীল পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, সরকারের উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাটের তৈরি স্কুল ব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি দেশীয় পাটপণ্যের ব্যবহারও বাড়বে।
বুটেক্সের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের পর প্রতিষ্ঠানটি টেক্সটাইল শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা শুধু চাকরিক্ষেত্রেই নয়, উদ্যোক্তা ও শিল্পখাতেও সফলতার সঙ্গে অবদান রাখছেন।
তিনি আরও বলেন, টেক্সটাইল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা প্রশাসন, পুলিশ, বিসিএস ও রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করে টেক্সটাইল শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করার তাগিদ দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও যৌক্তিক দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন টেক্সটাইল বিজ্ঞানী মাইকেল কোকেন।
অনুষ্ঠানে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান হাবিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশ-বিদেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী বুটেক্সে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-এর উদ্বোধন করেন। দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।