ঢাকা    শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ড্রোন হামলার পর ইউরোপে তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত সৌদি আরামকোর

ড্রোন হামলার পর ইউরোপে তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত সৌদি আরামকোর
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর ইউরোপের কয়েকটি তেল শোধনাগারে আগামী মাসে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল পোস্ট।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নয়, ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই আগামী মাসে সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে তথ্যটি প্রকাশ্যে না আসায় তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।

ইউরোপের বিভিন্ন তেল শোধনাগার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। এসব চুক্তিতে সাধারণত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু পাইপলাইনে হামলার পর আগামী মাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সৌদি আরামকোর কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ড্রোন হামলার পর গত সপ্তাহে সৌদি আরবকে তাদের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। দেশটির অভ্যন্তরে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটি ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনের কিছু অংশ পুনরায় চালু হতে পারে। তবে পুরো পাইপলাইন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

পাইপলাইন বন্ধ থাকায় সৌদি আরব থেকে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপের কয়েকটি তেল কোম্পানি ইতোমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইউরোপের শোধনাগারগুলো সৌদি তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির ওপরও নির্ভর করে। একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে বন্দরটি লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত। সৌদি তেল পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্নের পর আরামকোর কয়েকজন গ্রাহকের মধ্যে তেল মজুতের প্রবণতাও বেড়েছে বলে জানা গেছে।

পোল্যান্ডের তেল কোম্পানি অরলেনও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে। শুক্রবার থেকে কোম্পানিটি ১০টির বেশি দরপত্র আহ্বান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দরপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে দৈনিক গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

ফলে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিলে ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল শোধনাগারগুলোকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে হতে পারে।

ট্যাগ : ইউরোপ সৌদি আরব সৌদি আরামকো

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ড্রোন হামলার পর ইউরোপে তেল সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত সৌদি আরামকোর

প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পাইপলাইনে ড্রোন হামলার পর ইউরোপের কয়েকটি তেল শোধনাগারে আগামী মাসে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল পোস্ট।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নয়, ইউরোপের সব ক্রেতার ক্ষেত্রেই আগামী মাসে সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে তথ্যটি প্রকাশ্যে না আসায় তারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেননি।

ইউরোপের বিভিন্ন তেল শোধনাগার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সৌদি আরব থেকে নিয়মিত অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করে। এসব চুক্তিতে সাধারণত প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু পাইপলাইনে হামলার পর আগামী মাসের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সৌদি আরামকোর কাছে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ড্রোন হামলার পর গত সপ্তাহে সৌদি আরবকে তাদের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়। দেশটির অভ্যন্তরে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটি ইউরোপসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যে পাইপলাইনের কিছু অংশ পুনরায় চালু হতে পারে। তবে পুরো পাইপলাইন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রায় ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

পাইপলাইন বন্ধ থাকায় সৌদি আরব থেকে ইউরোপে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপের কয়েকটি তেল কোম্পানি ইতোমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

ইউরোপের শোধনাগারগুলো সৌদি তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর সিদি কেরির ওপরও নির্ভর করে। একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে বন্দরটি লোহিত সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত। সৌদি তেল পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্নের পর আরামকোর কয়েকজন গ্রাহকের মধ্যে তেল মজুতের প্রবণতাও বেড়েছে বলে জানা গেছে।

পোল্যান্ডের তেল কোম্পানি অরলেনও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে। শুক্রবার থেকে কোম্পানিটি ১০টির বেশি দরপত্র আহ্বান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব দরপত্রের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলো সৌদি আরব থেকে দৈনিক গড়ে ৫ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।

ফলে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিলে ইউরোপের জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভরশীল শোধনাগারগুলোকে বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে হতে পারে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ