নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর অনিয়মিত উৎপাদন। সূর্যের আলো না থাকলে সৌরবিদ্যুৎ এবং পর্যাপ্ত বাতাস না থাকলে বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় বা বন্ধ হয়ে পড়ে। এই সমস্যার সমাধানে বালুর মাধ্যমে তাপ সংরক্ষণের নতুন প্রযুক্তি চালু করেছে ফিনল্যান্ড।
দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের পোরনাইনেন শহরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক স্যান্ড ব্যাটারি চালু করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ব্যাটারিটি প্রায় ১৩ মিটার উঁচু এবং ১৫ মিটার প্রশস্ত। এতে প্রায় দুই হাজার টন চূর্ণ সাবানপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এর সংরক্ষণক্ষমতা প্রায় ১০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা তাপশক্তি।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে, এই স্যান্ড ব্যাটারির মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার বাসিন্দার গ্রীষ্মকালের এক মাস এবং শীতকালের প্রায় এক সপ্তাহের তাপের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
প্রকল্পটি তৈরি ও পরিচালনা করছে ফিনল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান পোলার নাইট এনার্জি। স্থানীয় জেলা তাপ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান লভিসান ল্যাম্পো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, স্যান্ড ব্যাটারি চালুর পর স্থানীয় হিটিং নেটওয়ার্কে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি কাঠের চিপসের ব্যবহার প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য পুরোনো কাঠভিত্তিক তাপ উৎপাদন ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।
স্যান্ড ব্যাটারি মূলত বড় আকারের একটি তাপ সংরক্ষণাগার। সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে অতিরিক্ত বা কম দামের বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে সেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বালু বা পাথরজাতীয় উপাদানকে উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করা হয়।
বিশেষভাবে নিরোধক করা একটি সাইলোতে এই তাপ কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত ধরে রাখা যায়। পরে প্রয়োজন হলে সেই তাপ দিয়ে পানি গরম করে শহরের জেলা হিটিং ব্যবস্থায় সরবরাহ করা হয়।
পোলার নাইট এনার্জির প্রধান নির্বাহী টমি এরোনেন বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় বড় পরিসরে শক্তি সংরক্ষণের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। স্যান্ড ব্যাটারির বড় সুবিধা হলো এতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির মতো বিরল খনিজের প্রয়োজন হয় না।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই প্রযুক্তির বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব দেশ ও অঞ্চল এখনো কয়লা, তেল ও অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেখানে এর ব্যবহার বাড়তে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি ও জলবায়ু নীতির অধ্যাপক জ্যান রোজেনো মনে করেন, দীর্ঘ সময় তাপ সংরক্ষণের সুবিধার কারণে এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিদ্যুতের দাম কম থাকলে শক্তি জমিয়ে রেখে পরে প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করা যায়।
তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংরক্ষিত তাপকে আবার বিদ্যুতে রূপান্তর করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। পাশাপাশি প্রচলিত রাসায়নিক ব্যাটারির তুলনায় এর শক্তি ঘনত্বও কম।
তারপরও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অনিয়মিত উৎপাদনজনিত সমস্যা কমানো, তাপ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাসে স্যান্ড ব্যাটারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: সিএনবিসি