দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে প্রতিটি গ্রামকে শক্তিশালী অর্থনীতি ও শহরের মতো নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন জনপদে রূপান্তর করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার, ২৫ জুলাই বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে আয়োজিত ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি বিভিন্ন গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে এসব উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং গ্রামীণ উন্নয়নের একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরডিএকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।
আগামী দিনের পরিকল্পনা প্রণয়নে সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার নির্দেশনা অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সংঘাতনির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে শিক্ষা, মর্যাদা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য এবং শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনের কার্যকর প্রয়োগ করতে হবে। পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
আরডিএ মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে জানানো হয়, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরডিএ গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে পানি সাশ্রয়ী সেচ, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা, দ্বিস্তর কৃষি, কমিউনিটি বায়োগ্যাস, নারী বীজ উদ্যোক্তা মডেল এবং রুরাল প্ল্যান্ট ক্লিনিক।
এ ছাড়া ট্রাইকোডার্মা প্রযুক্তি, আইওটি-ভিত্তিক সেচ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি এবং গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন প্রযুক্তিও আরডিএর উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনের মধ্যে রয়েছে।
দুই দিনের সম্মেলনে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক কার্যক্রম নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা, গবেষণা প্রবন্ধ ও পোস্টার উপস্থাপন এবং আরডিএর বিভিন্ন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্যের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।