ঢাকা    বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সিগারেটের বাড়তি দামে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি

সিগারেটের বাড়তি দামে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

সরকারের নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে দেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ব্যবস্থায় ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ সরকারি রাজস্বে যুক্ত হচ্ছে না; বরং সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে থেকে যাচ্ছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাজার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি শ্রেণির সিগারেটই ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পরিবেশক বা পাইকারদের কাছ থেকে নির্ধারিত খুচরা মূল্যের কাছাকাছি দামে সিগারেট কিনতে হওয়ায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত মুনাফার সুযোগ থাকে না। ফলে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্ন স্তরে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কিন্তু বাজারে নিম্ন স্তরের ১০ শলাকার কোনো কোনো প্যাকেট প্রায় ৭০ টাকা এবং মধ্যম স্তরের ২০ শলাকার প্যাকেট প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেট স্থানভেদে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের ২০ শলাকার প্যাকেট ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একটি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ঘোষিত মূল্য প্রতি শলাকা ২১ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা প্রায় ২৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক শলাকা করে বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ব্যবধান আরও বেশি বলে বাজার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিম্ন স্তরের এক শলাকা সিগারেটের নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা ২০ পয়সা হলেও বাজারে সাধারণত ৭ টাকা নেওয়া হয়। মধ্যম স্তরের নির্ধারিত মূল্য ৯ টাকা ২০ পয়সা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

সিগারেটের কর নির্ধারিত খুচরা মূল্য ধরে হিসাব করা হয়। ফলে বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলেও অতিরিক্ত অংশের ওপর সরকার কর পায় না। পিপিআরসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের মূল্য পূর্ণ টাকায় নির্ধারণ না করা এবং এক শলাকা বিক্রির ব্যবস্থার কারণে বছরে চার হাজার কোটি টাকার বেশি সম্ভাব্য রাজস্ব হারাতে পারে সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শফিউন নাহিন শিমুল বলেন, পরিবেশক বা বিক্রেতারা ঘোষিত খুচরা মূল্যের কাছাকাছি দামে সিগারেট কিনলে খুচরা পর্যায়ে বৈধ মুনাফা করার সুযোগ কমে যায়। এ কারণেই মূল্য নির্ধারণের কাঠামো সংস্কার করা প্রয়োজন।

একজন পাইকারি বিক্রেতার ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানি থেকে স্থানীয় পাইকার এবং সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছানোর প্রতিটি পর্যায়ে কার্টনের দাম বাড়ে। তবে এসব মূল্য ও সরবরাহব্যবস্থার তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীন নিরীক্ষায় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইন বা বিধির অধীনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অনুমতি নেই। বাজার তদারকির দায়িত্ব জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, সাধারণ বাজার তদারকি অভিযানে সিগারেট বিবেচনায় নেওয়া না হলেও লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনেই সিগারেট সরবরাহ করে। খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দাম নেওয়ার দায় প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেনি।

বিশেষজ্ঞরা পাইকারি, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ের জন্য পৃথক মূল্য ও মুনাফার হার নির্ধারণ, প্রতি শলাকার মূল্য স্পষ্ট করা এবং বাজার তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

ট্যাগ : সিগারেটের দাম রাজস্ব ক্ষতি ভোক্তা অধিকার

বাংলা ভিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিগারেটের বাড়তি দামে রাজস্ব ক্ষতি ৪ হাজার কোটি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারের নির্ধারিত খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে দেশের বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ ব্যবস্থায় ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ সরকারি রাজস্বে যুক্ত হচ্ছে না; বরং সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে থেকে যাচ্ছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাজার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি শ্রেণির সিগারেটই ঘোষিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পরিবেশক বা পাইকারদের কাছ থেকে নির্ধারিত খুচরা মূল্যের কাছাকাছি দামে সিগারেট কিনতে হওয়ায় তাদের জন্য পর্যাপ্ত মুনাফার সুযোগ থাকে না। ফলে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্ন স্তরে ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কিন্তু বাজারে নিম্ন স্তরের ১০ শলাকার কোনো কোনো প্যাকেট প্রায় ৭০ টাকা এবং মধ্যম স্তরের ২০ শলাকার প্যাকেট প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। উচ্চ স্তরের ১০ শলাকার প্যাকেট স্থানভেদে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরের ২০ শলাকার প্যাকেট ৪৩০ থেকে ৪৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একটি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ঘোষিত মূল্য প্রতি শলাকা ২১ টাকা হলেও খুচরা বাজারে তা প্রায় ২৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক শলাকা করে বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির ব্যবধান আরও বেশি বলে বাজার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিম্ন স্তরের এক শলাকা সিগারেটের নির্ধারিত মূল্য ৬ টাকা ২০ পয়সা হলেও বাজারে সাধারণত ৭ টাকা নেওয়া হয়। মধ্যম স্তরের নির্ধারিত মূল্য ৯ টাকা ২০ পয়সা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।

সিগারেটের কর নির্ধারিত খুচরা মূল্য ধরে হিসাব করা হয়। ফলে বাজারে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলেও অতিরিক্ত অংশের ওপর সরকার কর পায় না। পিপিআরসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের মূল্য পূর্ণ টাকায় নির্ধারণ না করা এবং এক শলাকা বিক্রির ব্যবস্থার কারণে বছরে চার হাজার কোটি টাকার বেশি সম্ভাব্য রাজস্ব হারাতে পারে সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. শফিউন নাহিন শিমুল বলেন, পরিবেশক বা বিক্রেতারা ঘোষিত খুচরা মূল্যের কাছাকাছি দামে সিগারেট কিনলে খুচরা পর্যায়ে বৈধ মুনাফা করার সুযোগ কমে যায়। এ কারণেই মূল্য নির্ধারণের কাঠামো সংস্কার করা প্রয়োজন।

একজন পাইকারি বিক্রেতার ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানি থেকে স্থানীয় পাইকার এবং সেখান থেকে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছানোর প্রতিটি পর্যায়ে কার্টনের দাম বাড়ে। তবে এসব মূল্য ও সরবরাহব্যবস্থার তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীন নিরীক্ষায় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইন বা বিধির অধীনে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অনুমতি নেই। বাজার তদারকির দায়িত্ব জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, সাধারণ বাজার তদারকি অভিযানে সিগারেট বিবেচনায় নেওয়া না হলেও লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটি দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি মেনেই সিগারেট সরবরাহ করে। খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দাম নেওয়ার দায় প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেনি।

বিশেষজ্ঞরা পাইকারি, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ের জন্য পৃথক মূল্য ও মুনাফার হার নির্ধারণ, প্রতি শলাকার মূল্য স্পষ্ট করা এবং বাজার তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ