সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দেশটির বিরোধী নেতাদের আশঙ্কা, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে এবং দীর্ঘ মেয়াদে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহাসিক এই পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সহায়তা দিতে পারবে।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে চুক্তিটি ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পথ তৈরি করে দিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, সৌদির মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ এই চুক্তিতে নেই। চুক্তিটি কার্যকর করার সঙ্গে সৌদি আরবের ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তও যুক্ত বলে জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর বলেছে, চুক্তিটি সৌদি আরবের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশটির পারমাণবিক জ্বালানি খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
চুক্তিটি নিয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা দেশটির প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে বিরোধী নেতারা এর তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট বলেন, ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে এমন একটি পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে নেওয়া গুরুতর কৌশলগত ব্যর্থতা এবং তা দেশটির নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।
সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লিবারম্যানও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে।
তিনি চুক্তিটির বিরোধিতা করতে ইসরায়েলি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি চুক্তিটি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর পরামর্শ দেন।
মার্কিন আইনে এ ধরনের ‘১২৩ চুক্তি’ পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসে পাঠানো হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্যে কংগ্রেস তা প্রত্যাখ্যান না করলে চুক্তিটি কার্যকর হতে পারে।