ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাই ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে প্রচণ্ড শব্দের সঙ্গে লাভা ও ছাই উদ্গীরণ শুরু হয়। বিস্ফোরণের শব্দ কয়েকশ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়। রোববারও নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আকাশে আগ্নেয় ছাই ছড়িয়ে পড়ায় জাকার্তার সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দরটি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে আরও সাতটি বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং সুমাত্রার রাদিন ইনতেন-২ বিমানবন্দর।
দেশটির পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরকে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে হাজারো যাত্রী আটকা পড়েছেন। অনেকেই বিকল্প পথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে আগ্নেয় ছাই দক্ষিণ সুমাত্রার বান্দার লামপুং শহরেও পৌঁছেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা ও গাড়ির ওপর ছাই জমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আনাক ক্রাকাতোয়া জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রণালিতে অবস্থিত। অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ওই এলাকার ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং জাহাজ চলাচলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আনাক ক্রাকাতোয়া নিয়মিত সক্রিয় হলেও ১৮৮৩ সালের ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাত ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ, যাতে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল।
সূত্র: এনডিটিভি