সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তাসনিম জারা।
তিনি মনে করেন, আলোচিত ঘটনাটি সংসদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের দাবি জানান তিনি।
তাসনিম জারা লেখেন, “যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ আমাদের সামনে এসেছে। তদন্ত কমিটি হোক, খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে মানুষটা কলংকমুক্ত হবেন। আর সত্য হলে, ‘মহান সংসদ’ নামের মর্যাদাটুকু বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। আর সংসদ যদি চুপ করে থাকে? তাহলে সেই নীরবতার মানে একটাই। এই সংসদ হয়েছে গরিবকে শোষণ করার জন্য। অথবা গরিবের মেয়ে এমপির দরজায় গেলে যা ইচ্ছা তা-ই করার জন্য।”
আলোচিত ভিডিওতে এক নারীর জীবনবৃত্তান্তে সুপারিশ করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও লেখেন, “সিভিতে সই পড়লো। জোর সুপারিশ করা হলো। কিন্তু সুপারিশের দাম হিসেবে মেয়েটিকে কী দিতে হয়েছে? হয়তো কিছুই না। হয়তো সবকিছু। আমরা জানি না। আর এই ‘জানি না’-টাই আসল কথা। কারণ যে সম্ভাবনাটা এখন আমাদের সামনে, সেটা কোনও সাধারণ কেলেঙ্কারি না। সম্ভাবনাটা হলো, জামায়াতে ইসলামীর একজন সংসদ সদস্য তার পদের জোর খাটিয়ে একটা অসহায় মেয়েকে একা রুমে নিয়ে গেছেন। চাকরির প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে। সম্ভাবনা মানে প্রমাণ না, জানি।”
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ভিত্তিতে তোলা এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীন তদন্ত বা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। তাসনিম জারাও তার বক্তব্যে সম্ভাবনা ও প্রমাণের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
দেশের চাকরির ক্ষেত্রে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের সুপারিশের ওপর নির্ভরশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তার ভাষ্য, “এ দেশে গরিবের চাকরি হয় কীভাবে? পরীক্ষা দিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে। আর সবশেষে, কোনও ক্ষমতাবান মানুষের দরজায় গিয়ে সুপারিশ নিয়ে। এলাকার সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষটির নাম এমপি সাহেব।”
ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে সুপারিশনির্ভর চাকরির ব্যবস্থাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেন তাসনিম জারা।
তিনি লেখেন, “এই যে সুপারিশের ব্যবস্থা, ক্ষমতাবানের এক লাইনের সইয়ে চাকরি হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা, এটা কি শুধু এই একটা ঘটনার সমস্যা? প্রতিটা নির্বাচনে প্রতিটা দল আমাদের কথা দেয়, দুর্নীতিমুক্ত দেশ, জিরো টলারেন্স। অথচ সরকার বদলায়, দল বদলায়, সুপারিশের ব্যবস্থাটা বদলায় না। এই একটা জায়গায় সব দল একমত। কেন? যার সই ছাড়া চাকরি হয় না, সেই গরিব মানুষটাকে জিম্মি রাখার জন্যই কি? আজকের গল্পটা দেখিয়ে দিলো, এই জিম্মিদশার দাম কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে।”
ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে গাজী নজরুল ইসলাম বা ভিডিওতে থাকা নারীর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া না গেলে অভিযোগগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।