ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

৭ লাখ কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ

৭ লাখ কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

গত পাঁচ মাসে ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটি এ তথ্য জানিয়েছে।

কৃষি ব্যাংকের হিসাবে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৪৮ জেলার মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক এই সুবিধা পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কৃষকদের তথ্য যাচাই এবং হিসাব সমন্বয়ের পর ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শস্য ও ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য এবং পশুপালন খাতের ঋণগ্রহীতাদেরও এ কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হবে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দাবি, ঘোষিত কর্মসূচির প্রায় ৩৯ শতাংশ ঋণ এককভাবে মওকুফ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি।

ঋণ অনাদায়ী থাকায় তারা নতুন করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ঋণ মওকুফ হওয়ায় এসব কৃষক আবার নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে এবং নতুন কৃষিঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, সরকারের নির্দেশনার পর কৃষকদের তথ্য দ্রুত যাচাই করে ঋণ মওকুফের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পুরোনো ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন।

তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে কৃষকেরা নতুন ঋণ নিয়ে আবার কৃষি উৎপাদনে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু, নদী-খাল পুনরুদ্ধার এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় কৃষকদের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন দশক পর আবার বড় পরিসরে কৃষিঋণ মওকুফের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে ব্যাংকটি ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি।

ট্যাগ : কৃষক কৃষিঋণ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক

বাংলা ভিউজ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৭ লাখ কৃষকের ৬০৫ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image

গত পাঁচ মাসে ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটি এ তথ্য জানিয়েছে।

কৃষি ব্যাংকের হিসাবে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের ৪৮ জেলার মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক এই সুবিধা পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কৃষকদের তথ্য যাচাই এবং হিসাব সমন্বয়ের পর ঋণ মওকুফের প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৃষকদের সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শস্য ও ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য এবং পশুপালন খাতের ঋণগ্রহীতাদেরও এ কর্মসূচির আওতায় রাখা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হবে। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দাবি, ঘোষিত কর্মসূচির প্রায় ৩৯ শতাংশ ঋণ এককভাবে মওকুফ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যাংকটি আরও জানিয়েছে, দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

দীর্ঘদিনের অনাদায়ী ঋণ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করেছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি।

ঋণ অনাদায়ী থাকায় তারা নতুন করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ঋণ মওকুফ হওয়ায় এসব কৃষক আবার নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে এবং নতুন কৃষিঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, সরকারের নির্দেশনার পর কৃষকদের তথ্য দ্রুত যাচাই করে ঋণ মওকুফের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পুরোনো ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন।

তার মতে, এই উদ্যোগের ফলে কৃষকেরা নতুন ঋণ নিয়ে আবার কৃষি উৎপাদনে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড চালু, নদী-খাল পুনরুদ্ধার এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় কৃষকদের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের আসল ও সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রায় তিন দশক পর আবার বড় পরিসরে কৃষিঋণ মওকুফের কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে ব্যাংকটি ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ