ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নতুন শঙ্কা

বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নতুন শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও চাপ তৈরির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন।

হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এটি হুতি নেতার পূর্বাভাস, নিশ্চিত বাজারমূল্য নয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পণ্য পরিবহন ও বীমা ব্যয় মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ফাওয়াজ গেরগেস বলেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে বোঝাতে চাইছে যে প্রয়োজনে তারা হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একসঙ্গে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত একটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌবাণিজ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

তবে হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব থাকলেও বাব আল-মান্দেব বন্ধের এই হুমকি তেহরানের সরাসরি নির্দেশে দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতিরা লোহিত সাগরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এতে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজ খাল এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল শুরু করে। ফলে পরিবহন সময়, জ্বালানি ও বীমা ব্যয় বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনাও বেড়েছে। সানা বিমানবন্দরে হামলার জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিকে দুই পক্ষের মধ্যে অন্যতম গুরুতর সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাব আল-মান্দেবে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নৌপথটি সচল রাখতে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স

ট্যাগ : ইরান যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ জাহাজ ইয়েমেন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্বের দুই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ঘিরে নতুন শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও চাপ তৈরির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন।

হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব ইয়েমেনে হামলা অব্যাহত রাখলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এটি হুতি নেতার পূর্বাভাস, নিশ্চিত বাজারমূল্য নয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। অন্যদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই পথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি রপ্তানির পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজের পাশাপাশি বাব আল-মান্দেবেও জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, পণ্য পরিবহন ও বীমা ব্যয় মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ফাওয়াজ গেরগেস বলেন, তেহরান ওয়াশিংটনকে বোঝাতে চাইছে যে প্রয়োজনে তারা হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একসঙ্গে চাপ তৈরি করতে সক্ষম। এতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত একটি বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌবাণিজ্য সংকটে রূপ নিতে পারে।

তবে হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব থাকলেও বাব আল-মান্দেব বন্ধের এই হুমকি তেহরানের সরাসরি নির্দেশে দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতিরা লোহিত সাগরে বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায়। এতে অনেক আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি বাব আল-মান্দেব ও সুয়েজ খাল এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে চলাচল শুরু করে। ফলে পরিবহন সময়, জ্বালানি ও বীমা ব্যয় বেড়ে যায়।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনাও বেড়েছে। সানা বিমানবন্দরে হামলার জবাবে হুতিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর এটিকে দুই পক্ষের মধ্যে অন্যতম গুরুতর সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বাব আল-মান্দেবে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নৌপথটি সচল রাখতে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। এতে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

সূত্র: রয়টার্স


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ