যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চায় না ইরান। আবার ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্তহীন আলোচনাতেও যেতে রাজি নয় তেহরান।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে দেশটি।
বুধবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলেও কাজে লাগাতে হবে।
তার ভাষায়, ইরানের কৌশল হলো প্রয়োজনে যুদ্ধ করা এবং একই সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিপক্ষের ওপর এমন চাপ তৈরি করা, যাতে শেষ পর্যন্ত তারা ইরানের দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়।
গালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, এর অর্থ অন্তহীন যুদ্ধ বা দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা নয়। বরং সামরিক চাপকে রাজনৈতিক অর্জনে রূপ দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
অর্থাৎ, তেহরানের বার্তায় যুদ্ধ শেষ করার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি। তবে আলোচনায় যাওয়ার আগে সামরিক চাপ বজায় রাখার অবস্থানই স্পষ্ট করা হয়েছে।
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় কৌশলগত এই নৌপথের কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর একটি সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ জিএফএস প্রাইড। জাহাজটিতে আগুন ধরে যাওয়ার পর ২১ জন ক্রুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে কেপ দাও নামের আরেকটি বাল্ক ক্যারিয়ার আগেই হামলার শিকার হয়েছিল এবং পরে ডুবে যায়। দুটি ঘটনার ক্ষেত্রেই জাহাজগুলো কোনো ধরনের প্রজেক্টাইল বা বিস্ফোরণের শিকার হয়েছিল বলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে।
একটি জাহাজ মাইনে আঘাত পেয়ে ডুবেছে বলে ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌবাহিনী দাবি করেছে। তবে জাহাজ দুটির ওপর হামলার প্রকৃতি এবং দায় নিয়ে সব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে। ফলে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়লে শুধু নৌনিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরান নিয়ে নতুন করে কড়া মন্তব্য করেছেন।
বুধবার অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে এক সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে এবং ইরানের যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে।
তবে এগুলো ট্রাম্পের নিজস্ব দাবি। বিশেষ করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে কিংবা হরমুজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন দাবির স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ যাচাই এই মুহূর্তে নেই।
ফলে একদিকে তেহরান বলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে।
আর হরমুজে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজ ঝুঁকিতে পড়ায় আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়ছে।
মন্তব্যসমূহ