ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর প্রতি সব ধরনের সমর্থন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটিতে ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলার পর বিদেশি রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনে নতুন আইনি ক্ষমতার আওতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ব্রিটিশ সরকার জানায়, আইআরজিসি এবং ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট’ নামের গোষ্ঠীটিকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। প্রস্তাবটি সংসদে অনুমোদিত হলে তাদের সদস্য হওয়া, সমর্থন জানানো, সভায় অংশ নেওয়া বা প্রতীক প্রদর্শন করা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নতুন আইনি ক্ষমতা বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে যুক্তরাজ্যে নাশকতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সহিংস কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা সহজ করবে।
ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, যুক্তরাজ্যের মাটিতে প্রাণনাশের হুমকি, নজরদারি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আইআরজিসির সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। বিদেশে ইরানের রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে সংস্থাটি বিভিন্ন সহযোগী গোষ্ঠী ব্যবহার করে বলেও দাবি করা হয়েছে।
সরকারের ভাষ্য, ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কম্প্যানিয়ন্স অব দ্য রাইট’ গোষ্ঠীটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই আইআরজিসির নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে। গোষ্ঠীটি যুক্তরাজ্যে ইহুদি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং ফারসি ভাষার গণমাধ্যম লক্ষ্য করে সাতটি হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
এসব ঘটনার মধ্যে লন্ডনে ইহুদি সম্প্রদায়ের ব্যবহৃত চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগও রয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাগুলো ছিল বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থে পরিচালিত সংঘবদ্ধ তৎপরতার অংশ।
ইরান অতীতে বিদেশে প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। যুক্তরাজ্যের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে লন্ডনে ইরানি দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
নতুন ব্যবস্থা সংসদে অনুমোদিত হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনোনীত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে। তাদের পক্ষে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।
একই আইনি কাঠামোর আওতায় রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউর স্বেচ্ছাসেবী শাখাকেও নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, রাশিয়া ইউরোপ ও ন্যাটোর নিরাপত্তা দুর্বল করতে নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি অনিয়মিত ও পরিচয় গোপন রাখা যায় এমন গোষ্ঠী ব্যবহার করছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ