ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে ফ্রান্স-স্পেন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দল ফ্রান্স ও স্পেন। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় ডালাস স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালটি।
বিশ্বকাপের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দুই দলের এই ম্যাচ ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও শক্তিমত্তার বিচারে ম্যাচটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান অপটার সুপারকম্পিউটার অবশ্য ফ্রান্সকে সামান্য এগিয়ে রেখেছে। ২৫ হাজার সিমুলেশনের ভিত্তিতে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফরাসিদের জয়ের সম্ভাবনা ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ। স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ২৯ শতাংশ এবং ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা ২৭ দশমিক ১ শতাংশ।
সব মিলিয়ে ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৫৭ দশমিক ১ শতাংশ। স্পেনের সম্ভাবনা ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়েও ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে রয়েছে ফ্রান্স। স্পেনের সম্ভাবনা ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
এই ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে নতুন ইতিহাস গড়বেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। বিশ্বকাপে এটি হবে কোচ হিসেবে তার ২৬তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে জার্মানির হেলমুট শ্যোনকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ড গড়বেন তিনি।
অন্যদিকে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন। বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে তার অধীনে টানা ১৩ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে স্পেন। এই সময়ে দলটি ১২ ম্যাচ জিতেছে এবং একটিতে ড্র করেছে।
কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স। এটি ছিল তাদের টানা ষষ্ঠ জয়। স্পেনকে হারাতে পারলে ইউরোপের দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বে ফরাসিরা।
বিশ্বকাপে অষ্টমবারের মতো সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে ফ্রান্স। ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২ সালে নিজেদের সর্বশেষ চারটি সেমিফাইনালেই জয় পেয়েছে তারা। আগের তিন সেমিফাইনালে কোনো গোলও হজম করেনি দলটি।
এবার জয় পেলে জার্মানি ও ব্রাজিলের পর টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠা তৃতীয় দল হবে ফ্রান্স।
ফরাসিদের সবচেয়ে বড় ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। কোয়ার্টার ফাইনালে গোড়ালিতে চোট পেলেও সেমিফাইনালে তার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আট গোল করে তিনি লিওনেল মেসির সঙ্গে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা ১২। এই পর্যায়ে এত গোল আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। তবে আগের দুই বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে গোলের দেখা পাননি তিনি।
ওসমান দেম্বেলের সঙ্গে এমবাপ্পের আক্রমণাত্মক বোঝাপড়াও ফ্রান্সের বড় শক্তি। টুর্নামেন্টে দুজন একে অপরের জন্য মোট ১৯টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন।
অন্যদিকে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের জমাট রক্ষণভাগ। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের প্রথম গোল হজম করে লা রোহা। অতিরিক্ত সময়ের কাছাকাছি গিয়ে বদলি মিকেল মেরিনোর গোলে জয় নিশ্চিত করে তারা।
শেষ ষোলোতে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বদলি হিসেবে নেমে টানা দুই ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার তিনি।
২০১৮ সালের পর বড় টুর্নামেন্টে খেলা ২৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে স্পেন। এই সময়ে তারা ১৬টি জয় এবং ১০টি ড্র করেছে। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের কাছে হারের পর টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে দলটি।
এই ১৪ ম্যাচে স্পেন মাত্র পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং নয়টি ম্যাচে নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছে।
২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে স্পেন। ফ্রান্সকে হারাতে পারলে ইউরোপের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়বে তারা।
দুই দলই প্রায় পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে। তবে ফ্রান্সের উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো ও অরেলিয়েন চুয়ামেনির ফিটনেস নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
স্পেন শিবিরে চোট কাটিয়ে নিকো উইলিয়ামসের বেশি সময় খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। কাঁধের সমস্যা থেকে পুরোপুরি সেরে উঠলে ইয়েরেমি পিনোকেও একাদশে দেখা যেতে পারে।
বিশ্বকাপে এটি হবে ফ্রান্স ও স্পেনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। ২০০৬ সালের শেষ ষোলোতে প্রথম মুখোমুখি লড়াইয়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স।
তবে দুই দলের সাম্প্রতিক মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে স্পেন। সর্বশেষ ১০ ম্যাচে সাতবার জিতেছে লা রোহা। ফ্রান্স জিতেছে দুটি ম্যাচ এবং একটি ড্র হয়েছে। সর্বশেষ দুই দেখাতেও জয় পেয়েছে স্পেন।
ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। এরপর ২০২৫ সালের নেশন্স লিগে ৫-৪ গোলের রোমাঞ্চকর জয় পায় লা রোহা।
অতীতের রেকর্ড, সাম্প্রতিক ছন্দ এবং তারকায় ভরা দুই দল বিবেচনায় ডালাসে আরেকটি রোমাঞ্চকর ফুটবল লড়াইয়ের অপেক্ষায় বিশ্ব।
মন্তব্যসমূহ