ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু বেড়ে ৩০

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু বেড়ে ৩০
ছবি : সংগৃহিত
ফলো করুন

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু বেড়ে ৩০

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার গভীর রাতে আগুন লাগার পর দ্রুত পুরো বারে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে থাই পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জানিয়েছেন, বারের একাধিক দরজা তালাবদ্ধ ছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার পথ নির্দেশক স্পষ্ট কোনো চিহ্নও তারা দেখতে পাননি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মঞ্চের কাছাকাছি থাকা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মঞ্চ ও ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সাজসজ্জার উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ প্রধান কিত্তিরাত ফানফেট বলেন, প্রাথমিক তথ্য নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর অবহেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদ্ধারকারীরা বারের পেছনের শৌচাগারের কাছ থেকে অনেকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, আগুন লাগার পর অনেকে ওই দিকে ছুটে গেলেও বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বুসাকর্ন সায়েনসুক জানান, শৌচাগারের পাশের একটি দরজা তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রধান প্রবেশপথের দুটি দরজার সামনে আসবাবপত্র থাকায় মানুষের দ্রুত বেরিয়ে আসা বাধাগ্রস্ত হয়।

বারের মঞ্চে প্লাস্টিকের ফুল এবং ছাদে দাহ্য ফোম ব্যবহার করা হয়েছিল। এসব উপকরণে আগুন ধরে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। আগুন থেকে তৈরি কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো গ্যাস অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী হতে পারে।

ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে নয়, সরাসরি সংগীত পরিবেশনের সুবিধাসহ রেস্তোরাঁ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। এ কারণে সেখানে কিছু কঠোর অগ্নিনিরাপত্তা বিধি প্রযোজ্য ছিল না।

ঘটনার পর একই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন, নির্মাণকাঠামো এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একই মালিকের আরেকটি পানশালা ২০১৯ সালে আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। সেটি দিনের বেলায় ঘটায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। এবারের দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের বার ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ট্যাগ : আগুন থাইল্যান্ড ব্যাংকক

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ব্যাংককের বারে ভয়াবহ আগুন, মৃত্যু বেড়ে ৩০

প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ব্যাংককের বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মৃত্যু বেড়ে ৩০

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

রোববার গভীর রাতে আগুন লাগার পর দ্রুত পুরো বারে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে থাই পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন জানিয়েছেন, বারের একাধিক দরজা তালাবদ্ধ ছিল। জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার পথ নির্দেশক স্পষ্ট কোনো চিহ্নও তারা দেখতে পাননি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মঞ্চের কাছাকাছি থাকা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। মঞ্চ ও ছাদে ব্যবহৃত দাহ্য সাজসজ্জার উপকরণের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ প্রধান কিত্তিরাত ফানফেট বলেন, প্রাথমিক তথ্য নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর অবহেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। উদ্ধারকারীরা বারের পেছনের শৌচাগারের কাছ থেকে অনেকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, আগুন লাগার পর অনেকে ওই দিকে ছুটে গেলেও বের হওয়ার পথ খুঁজে পাননি। ফলে বিষাক্ত ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

অগ্নিনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বুসাকর্ন সায়েনসুক জানান, শৌচাগারের পাশের একটি দরজা তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া প্রধান প্রবেশপথের দুটি দরজার সামনে আসবাবপত্র থাকায় মানুষের দ্রুত বেরিয়ে আসা বাধাগ্রস্ত হয়।

বারের মঞ্চে প্লাস্টিকের ফুল এবং ছাদে দাহ্য ফোম ব্যবহার করা হয়েছিল। এসব উপকরণে আগুন ধরে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করায় অনেকের মৃত্যু হয়েছে। আগুন থেকে তৈরি কার্বন মনোক্সাইড ও হাইড্রোজেন সায়ানাইডের মতো গ্যাস অল্প সময়ের মধ্যেই প্রাণঘাতী হতে পারে।

ব্যাংকক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে নয়, সরাসরি সংগীত পরিবেশনের সুবিধাসহ রেস্তোরাঁ হিসেবে নিবন্ধিত ছিল। এ কারণে সেখানে কিছু কঠোর অগ্নিনিরাপত্তা বিধি প্রযোজ্য ছিল না।

ঘটনার পর একই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন, নির্মাণকাঠামো এবং অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একই মালিকের আরেকটি পানশালা ২০১৯ সালে আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। সেটি দিনের বেলায় ঘটায় কোনো প্রাণহানি হয়নি। এবারের দুর্ঘটনার পর থাইল্যান্ডের বার ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ