প্রায় ২০ বছর পর ফিলিস্তিনে আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। প্রেসিডেন্সিয়াল অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে আগামী ২৮ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনের সব অঞ্চলে একই দিনে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ২০০৬ সালের পর এটিই হবে ফিলিস্তিনের প্রথম আইনসভা নির্বাচন।
সর্বশেষ ২০০৬ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহকে পরাজিত করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল হামাস। ওই নির্বাচনের পর দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে সংঘর্ষের মাধ্যমে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। এরপর থেকে পশ্চিম তীর ফাতাহ-সমর্থিত ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে এবং গাজা হামাসের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনি প্রশাসনে সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘোষণার পেছনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। গাজাকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত, ফাতাহ ও হামাসের রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের ভোটগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত হওয়া—এসব বিষয় নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সূত্র : আল জাজিরা
মন্তব্যসমূহ