বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস এবং রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি ১৯৭২ সালে সই হয়। পরে কিছু সংশোধন ও পরিমার্জনের পর ২০১৫ সালে চুক্তিটি নবায়ন করা হয়।
তিনি জানান, ভারতের বাজারে বাংলাদেশ তামাক ও মাদকজাত ২৫টি পণ্য ছাড়া প্রায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাচ্ছে। তবে রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনও কিছু অশুল্ক বাধা রয়েছে। এসব বাধা দূর করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পণ্য, সেবা ও বিনিয়োগ খাতে দুই দেশের মধ্যে বহুমাত্রিক সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট বা সিইপিএ সইয়ের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, যৌথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত শীর্ষ সম্মেলনে সিইপিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও ভারতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা অব্যাহত রাখা এবং অর্থনৈতিক সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ আলোচনা চলছে।
ভারতে রপ্তানি বাড়াতে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। তাই ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক এবং ওয়ার্কিং কমিটি পর্যায়ের সভা নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য বাধা কমানো, রপ্তানি বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার চেষ্টা চলছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার আরও সহজ করতে অশুল্ক বাধা দূর করা জরুরি। সরকার এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।














মন্তব্যসমূহ