ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
সংগৃহীত ছবি
ফলো করুন

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

তবে বাংলাদেশে তীব্র ঝড়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। বাংলাদেশ এর ডান পাশে থাকায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর মূল প্রভাব হবে বৃষ্টিপাত। লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

আবহাওয়া অধিদপ্তর উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

এদিকে রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ কিছু এলাকায় কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে পদ্মা নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে পদ্মার পানি ছিল স্থিতিশীল। আগামী দুই দিন গঙ্গার পানি বাড়ার পর পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়েছে, তবে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল ছিল। আগামী এক দিন ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ার পর পরবর্তী চার দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। তবে আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে আবার বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, গোমতী ও ফেনী নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে হালদা, সাঙ্গু, সেলোনিয়া ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। এসব নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়ার পর পরবর্তী দুই দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

ট্যাগ : সতর্কসংকেত আবহাওয়া অধিদপ্তর লঘুচাপ

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

তবে বাংলাদেশে তীব্র ঝড়ের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির। তিনি বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। বাংলাদেশ এর ডান পাশে থাকায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর মূল প্রভাব হবে বৃষ্টিপাত। লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও কম।

আবহাওয়া অধিদপ্তর উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও খুলনা বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।

এদিকে রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ কিছু এলাকায় কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে পদ্মা নদীর পানি সমতল বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে পদ্মার পানি ছিল স্থিতিশীল। আগামী দুই দিন গঙ্গার পানি বাড়ার পর পরবর্তী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়েছে, তবে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল ছিল। আগামী এক দিন ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়ার পর পরবর্তী চার দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। তবে আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে আবার বাড়তে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, গোমতী ও ফেনী নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে হালদা, সাঙ্গু, সেলোনিয়া ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। এসব নদীর পানি আগামী এক দিন বাড়ার পর পরবর্তী দুই দিনে দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ