দেশে বর্তমানে ১৭ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এই মজুদকে পর্যাপ্ত উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দেশে খাদ্যের অভাবে কেউ মারা যাবে না। একই সঙ্গে চলতি মৌসুমে আমন ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, ক্রয়মূল্য এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।
রোববার (৮ নভেম্বর) খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, চলতি বছরে সরকারের আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য হবে ৩৫ টাকা। তবে কৃষকেরা আরও ধান বিক্রি করতে আগ্রহী হলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে অতিরিক্ত ধান সংগ্রহের সুযোগ থাকবে।
ধানের পাশাপাশি ৫ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ক্ষেত্রে প্রতি কেজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ টাকা। অন্যদিকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে প্রতি কেজি ৪৮ টাকা দরে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে আমন ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। এই কার্যক্রম চলবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আর চাল সংগ্রহ শুরু হবে ১ ডিসেম্বর থেকে। চাল কেনার কার্যক্রমও শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি।
খাদ্যমন্ত্রী জানান, দেশের বাজারে মোটা চালের দাম বাড়েনি। তবে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে।
খাদ্যশস্যের মজুদ নিয়ে তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল ও গম রয়েছে। ফলে খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছে সরকার।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চাল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন আফরোজা খানম।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে খাদ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমেও কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন আমন ধান, ৫ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।














মন্তব্যসমূহ