ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ এবং এর সংলগ্ন বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ব্যাপক ও সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মূলত ইউক্রেনের সামরিক-শিল্প খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সাবস্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এসব জোরালো আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মস্কোর আনুষ্ঠানিক দাবি অনুযায়ী, কিয়েভের অন্যতম প্রধান যোগাযোগ অবকাঠামো নর্দার্ন ব্রিজ এবং বিখ্যাত সামরিক সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেরিডিয়ান কারখানায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানী কিয়েভে অবস্থিত এই নর্দার্ন ব্রিজটি ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য পশ্চিমা অস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও ভারী সামরিক সরঞ্জাম নিয়মিত পরিবহণ করা হচ্ছিল। অপরদিকে আঘাতপ্রাপ্ত মেরিডিয়ান কারখানায় ইউক্রেনের দূরপাল্লার ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও সংযোজনের কাজ চলছিল বলে মস্কোর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া কিয়েভ অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনাও এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। রুশ বাহিনীর ভাষ্যমতে, ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোর তালিকায় একটি প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, একাধিক উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সাবস্টেশন এবং সম্মুখসারির জন্য গোলাবারুদ উৎপাদনকারী বিশেষ কারখানা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ঝিতোমির অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সাবস্টেশন ধ্বংস করার পাশাপাশি কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের উদ্দেশ্যে সামরিক রসদ ও দ্বৈত ব্যবহারের সরঞ্জাম পরিবহণকারী একটি কার্গো জাহাজে সফল মিসাইল স্ট্রাইক চালানোর দাবিও জানিয়েছে মস্কো। শীত মৌসুম শুরুর ঠিক মুখে ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ লাইন এবং যুদ্ধ সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করে দিতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স














মন্তব্যসমূহ