ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও এর আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) মধ্যরাতের পর এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে।কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্তত সাতটি স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার সময় প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময়জুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত চালু ছিল এবং নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপরতা চালায়।[BANGVIEWS-POST:3170]কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, নগরকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি গুদাম ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এছাড়া আরও কয়েকটি গুদাম ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।মেয়র আরও জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। হামলার সময় ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।রাশিয়ার ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ বাড়ানোর জন্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ নিয়েই রাশিয়া এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।[BANGVIEWS-POST:3169]এদিকে, পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিজ দেশে উৎপাদনের অনুমতি ও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর বেসামরিক হতাহতের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।সূত্র: আল জাজিরা