ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থার পাশাপাশি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোও বোমা হামলার হুমকি পাওয়ায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) লিসবন, রোম, প্রাগ ও সোফিয়াগামী এবং এসব শহর থেকে ছেড়ে আসা একাধিক ফ্লাইটকে হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনটি উড়োজাহাজকে হাঙ্গেরির যুদ্ধবিমানের পাহারায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
চলতি সপ্তাহে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইউরোপের বিভিন্ন বিমান ও বিমানবন্দর একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ল। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে প্রায় ৩০টি উড়োজাহাজ ও কয়েকটি বিমানবন্দরে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনাকে যুক্তরাজ্য ‘বিদ্বেষপূর্ণ প্রতারণা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
শুক্রবার লিসবন থেকে রোমগামী রায়ানএয়ারের একটি নিয়মিত ফ্লাইটও হুমকি পায় বলে জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, চেক প্রজাতন্ত্র ও বুলগেরিয়ার অন্তত ১১টি ফ্লাইটে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, দেশটির অন্তত চারটি ফ্লাইট বোমা হামলার হুমকির মুখে পড়েছিল। তবে সব উড়োজাহাজই নিরাপদে অবতরণ করেছে। শুক্রবার পর্যন্ত কোনো বিমানে বোমা বা বিস্ফোরক পাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
বিমান চলাচলে নিরাপত্তা উদ্বেগের পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের কয়েকটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও হুমকির কারণে খালি করা হয়। কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিই। এ ছাড়া আইরিশ ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার কর্মীদের এবং নিউস্টকএফএম ও টুডেএফএম রেডিও স্টেশনের ডাবলিন কার্যালয়ের কর্মীদেরও ভবন ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরটিইর কার্যালয় খালি করার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাজ্যের সম্প্রচারমাধ্যম স্কাইও নিরাপত্তা হুমকি পাওয়ার কথা জানায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে। কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে তারা।
আয়ারল্যান্ডের পুলিশ বাহিনী গার্দাই এক বিবৃতিতে জানায়, আয়ারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকির বিষয়ে তারা অবগত রয়েছে। তবে বিমান সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হুমকির সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকির সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
আইরিশ সরকার মনে করছে, এসব ঘটনা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির কোনো সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ধরনের মিথ্যা হুমকির ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে জনমনে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে হুমকিগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তি জড়িত, নাকি কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। মার্টিন আরও বলেন, ‘গতকাল বিমান চলাচল ব্যাহত করতে সমন্বিতভাবে চেষ্টা চালানো হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে।’
আগামী সপ্তাহে ডাবলিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে ইতালির বিমানবন্দরগুলোতে ভুয়া বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় আলোচনায় আসা রুশ চরমপন্থী গোষ্ঠী ‘মেল স্টেট’ এসব ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিবিসি রাশিয়ান সার্ভিসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় গোষ্ঠীটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট অভিযোগটি উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।














মন্তব্যসমূহ