ন্যূনতম বেতন বাড়ানোর দাবিতে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও সহিংসতার পর গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে সার্বিক পরিস্থিতি অবশেষে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অধিকাংশ পোশাক কারখানা পুনরায় খুলে দেওয়ায় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় শিল্প এলাকা এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক পাহারায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে মহাসড়কে যান চলাচল এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, ভোগড়া, কাশিমপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সরেজমিনে ঘুরে কর্মচঞ্চল পরিবেশ দেখা যায়।
জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকরা। একপর্যায়ে এই আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, স্থানীয় বাজার ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জানমাল রক্ষার্থে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বেশ কয়েকটি কারখানা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসায় অধিকাংশ কারখানা কর্তৃপক্ষ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেয়। সকাল থেকেই দলে দলে নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের কারখানায় প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে সামগ্রিক ঝুঁকি এড়াতে কিছু কিছু কারখানা এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে।
কাজে ফেরা কয়েকজন সাধারণ পোশাকশ্রমিক জানান, গত কয়েক দিন ধরে রাস্তাঘাটে ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার কারণে তারা চাইলেও কারখানায় যোগ দিতে পারেননি। গেটের সামনে জটলা ও আন্দোলন দেখে তাদের ফিরে যেতে হতো। তবে আজ সকাল থেকে কোনো ধরনের পিকেটিং বা বিশৃঙ্খলা না থাকায় তারা নির্বিঘ্নে নিজ নিজ কাজে যোগ দিয়েছেন।
এদিকে শিল্প এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলার তদারকিতে দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৫টি প্লাটুন। তাদের সহায়তায় মাঠে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া পুলিশ ও র্যাবের একাধিক যৌথ টহল দল সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। মালিকপক্ষকে বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে।














মন্তব্যসমূহ