আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে অন্যায়, জুলুম, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র লুণ্ঠিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিনিধিদলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাসের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বিষয়টি তুলে ধরেন স্পিকার।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
স্পিকারের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনী পর্যবেক্ষকেরা এই নির্বাচনের প্রশংসা করেছেন।
তাঁর মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
গণতন্ত্র ও উন্নয়নের সম্পর্ক তুলে ধরে স্পিকার বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর অন্যায়, নিপীড়ন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার লুণ্ঠিত হয়েছিল।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্পিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং তাঁদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা।
আলোচনায় সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি উঠে আসে।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মনে করেন, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত আলোচনায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত ও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন।
এ ছাড়া শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যাতে সংসদীয় বিতর্কের বিষয়বস্তু সহজে জানতে ও বুঝতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে মতামত দেন তাঁরা।
সাক্ষাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
মন্তব্যসমূহ