ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, শেখ হাসিনা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরুন অথবা তাঁকে ফিরিয়ে আনা হোক—এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ও উদ্দেশ্য অভিন্ন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সংক্রান্ত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার পাসপোর্টের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাঁর দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার কোনোভাবেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকাতে চায় না; বরং তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েই সরকারের প্রধান আগ্রহ রয়েছে। তিনি বলেন, "তিনি নিজে আসুন অথবা আমরা তাঁকে ধরে নিয়ে আসি—আমরা তো তাঁকে চাচ্ছি। এখন যদি তাঁর পাসপোর্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্ন ওঠে, তবে তিনি আসার যোগ্য। তিনি যদি আসার সিদ্ধান্ত নেন বা আমাদের যদি তাঁকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হয়, সেটি পাসপোর্টের প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, মূল উদ্দেশ্য তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা।"
শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, তাঁকে সেখান থেকে প্রত্যর্পণ বা ফেরত আনার জন্য ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ ক্ষেত্রে যে ধরনের আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা এবং আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে।
শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস চাইলে সরকার তা অনুমোদন করবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামি হলেও আইনিভাবে তিনি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের নাগরিক। তিনি দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক আবেদন জানালে সরকার ঠিক কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে, তা সেই সময়কার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, "তিনি নিজে আসুন অথবা আমরা তাঁকে ধরে আনি, আমাদের চাওয়া তো একই। যদি পরিস্থিতি সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সরকার যেকোনো বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।"
সাম্প্রতিক সহিংসতা বা নাশকতার ঘটনায় শেখ হাসিনার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা আগের সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতির মতো বিরোধীদের ঢালাও দোষারোপের পুনরাবৃত্তি কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি বলেন, দুটি সরকারকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না। একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণের মধ্যে গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "জনগণের কাছে যদি আমরা কোনো মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করি, তবে তার দায় ও পরিণতি আমাদের সরকারকেই ভোগ করতে হবে। আমরা যে বক্তব্য দিচ্ছি, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ভিত্তি রয়েছে বলেই বলছি। এটি বিগত সরকারের মতো নিছক রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর দোষ চাপানোর সংস্কৃতি নয়।"
মন্তব্যসমূহ