ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা

বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ চালু হচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, খাবার ও নিরাপত্তার দায়িত্বও নেবে সিটি করপোরেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীরা বিনা টিকিটে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবহন ও খাবারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

একই সঙ্গে সফর চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বও থাকবে সংস্থাটির।

অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজন পরিচালনা করবে।

এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে গাইডের সহায়তায় ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখা, জাদুঘর ও প্রদর্শনী পরিদর্শন, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতা।

এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনগ্রসর পরিবারের সন্তান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ফলে আর্থিক ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে যারা সাধারণত শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না, তাদের জন্যও ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শিক্ষার্থী নির্বাচনের নির্দিষ্ট আবেদনপদ্ধতি কিংবা প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে কতজন অংশ নিতে পারবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ডিএসসিসি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

তবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরাসরি শিক্ষা সফরের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।

প্রাথমিক মেয়াদ শেষে কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে চুক্তির মেয়াদ ও পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম জানান, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিক বোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরিই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরতে পারবে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ চালু হচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, খাবার ও নিরাপত্তার দায়িত্বও নেবে সিটি করপোরেশন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই উদ্যোগের আওতায় শিক্ষার্থীরা বিনা টিকিটে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরসহ ঢাকার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের পরিবহন ও খাবারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

একই সঙ্গে সফর চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্বও থাকবে সংস্থাটির।

অন্যদিকে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক আয়োজন পরিচালনা করবে।

এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে গাইডের সহায়তায় ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখা, জাদুঘর ও প্রদর্শনী পরিদর্শন, কুইজ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতা।

এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অনগ্রসর পরিবারের সন্তান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

ফলে আর্থিক ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে যারা সাধারণত শিক্ষা সফরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায় না, তাদের জন্যও ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হবে।

তবে শিক্ষার্থী নির্বাচনের নির্দিষ্ট আবেদনপদ্ধতি কিংবা প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে কতজন অংশ নিতে পারবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ডিএসসিসি ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি ৩ নভেম্বর ২০২৬ থেকে প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে।

তবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সরাসরি শিক্ষা সফরের কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি।

প্রাথমিক মেয়াদ শেষে কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে চুক্তির মেয়াদ ও পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। ইতিহাস ও সংস্কৃতিচর্চার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমিক, মানবিক ও সংস্কৃতিমনস্ক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম জানান, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নান্দনিক বোধ ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশের সুযোগ তৈরিই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাবসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ