বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন ও অসন্তোষের জেরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ করে। এ ঘটনায় কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলেও দুপুরের পর মহাসড়ক দুটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে ৫০টির বেশি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় প্যানিসিয়া লিমিটেড ও দিগন্ত সোয়েটার কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক ও উড়ালসড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন এবং বর্জ্য ফেলে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোড় মোড় এবং গাজীপুর-সিলেট মহাসড়কের বাইপাস এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এ ছাড়া কোনাবাড়ী, মৌচাক, তেলিচালা, কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় শ্রমিকেরা মহাসড়কে নামার চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের মালিকানাধীন ইন্টারস্টফ কারখানার শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাঁদের ঘিরে রাখেন। ফলে তাঁরা মহাসড়কে উঠতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ২৫টির বেশি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে বেলা ১২টার পর থেকে মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকেরা সকালে কাজে যোগ দিতে প্রবেশ করলেও পরে কাজ না করে বিক্ষোভ শুরু করেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কর্তৃপক্ষ ৫০টির বেশি কারখানায় মঙ্গলবারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে।
শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে গাজীপুরে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যদের মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
আন্দোলনরত এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও আমাদের বেতন বাড়ে না।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সকালে জানান, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক কারখানায় শ্রমিকেরা সকালে প্রবেশ করলেও পরে কাজে যোগ না দিয়ে বের হয়ে আসেন। এ কারণে ৫০টি কারখানায় মঙ্গলবারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাঁদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়। মহাসড়কের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন বলেন, মহানগরীর বগুড়া ও নাওজোড় এলাকায় কয়েকটি স্থানে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। পরে তাঁরা সরে না গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সরিয়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, বেলা ১২টার পর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ