ঢাকা    সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
বাংলাদেশ সময়
বাংলা ভিউজ

শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চাই না: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চাই না: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
ফলো করুন

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য শিক্ষা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত সেই উদ্যোগ নিতে চান না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দ্রুত পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তাকে এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা আগে থাকলেও তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিশন গঠন করতেও আগ্রহী নন।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, কমিশনে যাঁদের সদস্য করা হবে, তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মূলত অতীতের শিক্ষা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অথচ প্রযুক্তি ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাও দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় ভবিষ্যতের শিক্ষা কোন দিকে এগোবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বর্তমান অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি জানান, শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। তবে পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা জানার সুযোগ রয়েছে।

তবে শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের জন্য নতুন কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তাঁর মতে, আধুনিক শিক্ষায় এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা আরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হচ্ছে।

শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নায়েমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন), কোর্স উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক প্রিম রিজভী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাসিমা খান।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষা কমিশন গঠনের পরিবর্তে পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব উঠে এলেও সংস্কার কার্যক্রমের জন্য বিকল্প কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি।

ট্যাগ : শিক্ষামন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা কমিশন

মন্তব্যসমূহ

মন্তব্য লোড হচ্ছে…

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য অনুমোদনের পরে প্রকাশিত হবে।
ব্যক্তিগত তথ্য বা আপত্তিকর লেখা দেবেন না।

আপনার মন্তব্য জমা হয়েছে

মন্তব্যটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এটি প্রকাশিত হবে।

বাংলা ভিউজ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


শিক্ষা কমিশন গঠন করতে চাই না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য শিক্ষা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত সেই উদ্যোগ নিতে চান না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দ্রুত পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তাকে এ সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা কমিশন গঠনের পরিকল্পনা আগে থাকলেও তিনি তা বাস্তবায়ন করেননি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কমিশন গঠন করতেও আগ্রহী নন।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, কমিশনে যাঁদের সদস্য করা হবে, তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মূলত অতীতের শিক্ষা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অথচ প্রযুক্তি ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থাও দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় ভবিষ্যতের শিক্ষা কোন দিকে এগোবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বর্তমান অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি জানান, শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। তবে পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় বিদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা জানার সুযোগ রয়েছে।

তবে শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের জন্য নতুন কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তাঁর মতে, আধুনিক শিক্ষায় এআইয়ের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা আরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হচ্ছে।

শিক্ষার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

নায়েমের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নায়েমের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন), কোর্স উপদেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক প্রিম রিজভী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ২১০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাসিমা খান।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষা কমিশন গঠনের পরিবর্তে পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব উঠে এলেও সংস্কার কার্যক্রমের জন্য বিকল্প কোনো নির্দিষ্ট কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি।


বাংলা ভিউজ

প্রকাশক: মোহাম্মদ জুনাইদ
সম্পাদক: মোঃ জাকির হোসেন
ঠিকানা: ট-৩৯/১, হাসনা মঞ্জিল, গুলশান, ঢাকা - ১২১২
কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত বাংলা ভিউজ