বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে ভোলাসহ দেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানিকে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এ আহ্বান জানানো হয়।
সাক্ষাতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষা এবং জাহাজ নির্মাণশিল্পের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার সিঙ্গাপুর।
দেশটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে বলে মনে করেন স্পিকার।
সাক্ষাতে তিনি দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ভোলা ও উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের কাজে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সিঙ্গাপুরের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেরেক লো বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান বাড়াতে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন।
তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বাড়ানো গেলে দেশের কর্মক্ষম তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেরেক লো বলেন, জাহাজ ও বিভিন্ন ধরনের নৌযান নির্মাণ সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশও জাহাজ নির্মাণশিল্পের প্রসার এবং ড্রাই ডক স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারে বলে মত দেন তিনি।
এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্পের প্রসার ও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সংসদীয় সফর বিনিময়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাবলিক পরীক্ষা এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন স্পিকার ও হাইকমিশনার।
আলোচনায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং দেশে নতুন করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেন।
পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে সিঙ্গাপুর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাতে সিঙ্গাপুর দূতাবাসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্যসমূহ