ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার আশুলিয়ায় আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, মধ্যাহ্নবিরতির পর কারখানা থেকে খাবার খেতে বের হলে পুলিশ তাঁদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে শ্রমিকদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
তবে ঘটনার শুরু নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, শ্রমিকেরাই প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মনিরুল ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ১০ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করার কথাও জানান তিনি।
তবে আহত শ্রমিকদের পরিচয়, তাঁদের চিকিৎসার অবস্থা এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-আশুলিয়া-ইপিজেড আঞ্চলিক মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
পরে বেলা দেড়টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সড়কে যান চলাচল আবার শুরু হয়।
আশুলিয়ার কতটি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে কিংবা কতগুলো কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি পুলিশ সুপার মনিরুল ভূঁইয়া।
এদিকে একই দিন সকাল থেকেও নরসিংহপুর ও আশপাশের এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।
শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
তবে দুপুরের সংঘর্ষে কে প্রথম হামলা চালিয়েছে, সে বিষয়ে শ্রমিক ও পুলিশের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
মন্তব্যসমূহ