রাজধানীর মিরপুর এলাকায় সকাল থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা তৈরি পোশাক শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে পুলিশ। তবে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে মিরপুরের সড়ক থেকে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
যুগ্ম কমিশনার জানান, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং এখন এ বোর্ডের মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। সার্বিক এ অগ্রগতি শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে তারা দীর্ঘ সময় রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পুলিশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাধারণ শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ যাত্রীদের তীব্র জনভোগান্তি লাঘবে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে সড়ক পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে কৌশলগত কারণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করেছে। তবে কোনো ধরনের লাঠিচার্জ করা হয়নি, কাউকে আটক করা হয়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি।
অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা এবং অনেকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সড়ক মুক্ত করার সময় পুলিশ মূলত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী ছিল। কারও ফোন হারিয়ে বা ছিনিয়ে নেওয়া হয়ে থাকলে তা উদ্ধারে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। এছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা অপেশাদার আচরণ ঘটে থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে মিরপুরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মন্তব্যসমূহ