বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, মানবাধিকার সুরক্ষা, জুলাই সনদ এবং চলমান সংবিধান সংশোধন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে তাদের মধ্যে এই দ্বিপক্ষীয় সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাতকালে স্পিকার উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই নরওয়ে ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করছে। বিশ্বের শীর্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর একটি হিসেবে নরওয়ে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে।
বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে দেশের মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ভুলণ্ঠিত হয়েছিল। দলীয় সরকারের সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করা হয়েছিল। যার শিকার হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক কারণে বারবার কারাবরণ করতে হয়। তবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং দেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ধারায় ফিরে আসে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি জানান, এ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো তৎপরতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ প্রক্রিয়ায় নরওয়েসহ ইউরোপীয় দেশগুলোর কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করেন স্পিকার।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সদস্যদের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অনন্য ভূমিকা পালন করছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিক বিকাশ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় নরওয়ে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, আইনপ্রণেতাদের সফর বিনিময়, শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের তাৎপর্য এবং চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির অগ্রগতি ও জুলাই সনদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ভোলাসহ দেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে নরওয়ের অভিজ্ঞ কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্তব্যসমূহ