আরব উপসাগরে (পারস্য উপসাগর) কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি নিশ্চিত করেছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) রাতে ‘আল মায়েদা’ নামের একটি এলএনজি ট্যাংকারে অজ্ঞাত কোনো বস্তুর আঘাত লাগে।
কোম্পানিটির আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় জাহাজে অবস্থানরত নাবিকদের কেউ হতাহত হননি এবং তারা প্রত্যেকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন। জাহাজের গ্যাস চেম্বারে কোনো লিকেজ না হওয়ায় আশপাশের সামুদ্রিক এলাকায় পরিবেশগত কোনো বিপর্যয় বা ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে নৌযানটি নিরাপদ অবস্থায় সচল রয়েছে এবং আঘাতের ফলে জাহাজে কাঠামোগত প্রভাব কতটা পড়েছে, তা কারিগরি দল খতিয়ে দেখছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি এবং আক্রমণকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করে, তবে আগামী দুই দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পেশ করা শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরান ও ওমানের নির্ধারিত নতুন বিকল্প নৌপথের স্বীকৃতি প্রদান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানো এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পূর্বঘোষণা পুনর্বহাল। একই সঙ্গে কাতারে আটকে থাকা অর্থসহ আন্তর্জাতিক ব্যাংকে জব্দ ইরানি তহবিল ছাড়, হরমুজের নির্দিষ্ট রুট ছাড়া অন্য পথ বন্ধ রাখা এবং সব ফ্রন্টে বিশেষ করে লেবাননে সামরিক আগ্রাসন পুরোপুরি বন্ধ করার দাবিও জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে বড় উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
মন্তব্যসমূহ