তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ ও বেতন বৃদ্ধির দাবির মুখে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে সরকার। শ্রম আইন অনুযায়ী গঠিত এই বোর্ড আজ রোববার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নতুন এই বোর্ড দেশের পোশাক খাতের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে মজুরি সংক্রান্ত সুপারিশ পেশ করবে।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে মজুরি বোর্ড গঠনের এ ঘোষণা দেন। তবে নতুন এই মজুরি কাঠামোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে নাগাদ ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ তিনি জানাননি।
বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক শ্রমিকদের আইনি ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে খাদ্যসামগ্রী, বাসাভাড়া, পরিবহন ও চিকিৎসার ব্যাপক ব্যয়বৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে জীবন নির্বাহ অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে শ্রমিকরা ন্যূনতম মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। শনিবার গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা আশুলিয়ার প্রায় ৩০টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন স্থগিত রেখে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অবরোধের পাশাপাশি আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে, যাতে পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। রোববারও কালিয়াকৈর, কোনাবাড়ী ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন শ্রমিকরা।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শ্রমিক নেতা ও শিল্প মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে ভারসাম্য বজায় রেখে এই মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক সভা আহ্বান করা হবে এবং বিস্তারিত আলোচনার পর সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা হবে।
একই সঙ্গে আন্দোলন প্রত্যাহার করে শ্রমিকদের অবিলম্বে কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জোর আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলে রপ্তানি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হয়ে রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।
মন্তব্যসমূহ