জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়বৃদ্ধি, শিক্ষায় বাজেট সংকোচন এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক তরুণদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে জার্মানিতে শুরু হওয়া জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভ এবার ভয়াবহ সহিংস রূপ নিয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) দেশটির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর ফ্রাঙ্কফুর্টের কেন্দ্রে বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। রাজধানী বার্লিন, কোলন ও হামবুর্গেও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি।
‘জেন-জি রেজেল্ট’ (Gen Z Regelt বা ‘জেন-জি দায়িত্ব নিচ্ছে’) নামের একটি ছাত্র ও যুব প্ল্যাটফর্মের নেতৃত্বে এই দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। আয়োজক সংগঠনের মুখপাত্র লিনা ফ্রেডরিখ জানান, তাদের আন্দোলন যুদ্ধ ও জবরদস্তির বদলে শান্তি ও স্বাধীনতার পক্ষে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ, সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতি প্রত্যাহার, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক ড্রাফটের বিরোধিতাই ছিল এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। ফ্রান্সে সম্প্রতি ৩ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি তরুণ-শ্রমিকের অংশগ্রহণে হওয়া অসন্তোষের ধারাবাহিকতায় এ আন্দোলন জার্মানির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার দিনের বেলায় কর্মসূচি তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ থাকলেও অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কেন্দ্রস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এক্সে (সাবেক টুইটার) ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশের দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়, শহরের কেন্দ্রস্থলে সহিংস দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। দুর্বৃত্তরা একাধিক অভিজাত বিপণিবিতানের কাঁচ ভেঙে পণ্য লুটপাট করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত জরুরি সেবাকন্যা ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে সরাসরি মলোটভ ককটেল নিক্ষেপ করে।
কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, তাণ্ডব চলাকালে একটি অস্ত্রের দোকানের সুরক্ষাবেষ্টনী ও কাঁচ ভেঙে ভেতরে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ফ্রাঙ্কফুর্টের প্রধান শপিং স্ট্রিটের বড় একটি অংশ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে নিরাপত্তা বাহিনী।
জার্মানির হেসেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোসেক উদ্ভূত পরিস্থিতিকে ‘চরম লজ্জাজনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে আনুমানিক ১০০ জনের মতো চিহ্নিত উগ্র বামপন্থি চরমপন্থি অনুপ্রবেশ করে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সে যেভাবে পুলিশ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটেছে, জার্মানিতে কোনো অবস্থাতেই সেটিকে আদর্শ হতে দেওয়া হবে না বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্যসমূহ